সেবায় অসন্তুষ্ট, মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ৪২ হাজার অভিযোগ

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২১, ১২:০০

মোবাইল ফোনের সেবায় চরম অসন্তুষ্ট গ্রাহকরা। কল ড্রপ, মিউট কল, ইন্টারনেটের স্পিড ঠিকমতো না পাওয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ তাদের। গতকাল রবিবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা—বিটিআরসির গণশুনানিতে অংশ নিয়ে গ্রাহকরা এই অভিযোগ করেন। গ্রাহকদের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি জানিয়েছে, গত দুই বছরে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে সাড়ে ৪২ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে সেবার মানে অসন্তুষ্টি নিয়ে অভিযোগ এসেছে ২৫ হাজার ৯৫টি।

আর সিম বার, এমএনপি, ডেটা স্পিড নিয়ে অভিযোগ এসেছে ১৭ হাজার ৪৯২টি। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত দুই বছরে এই অভিযোগ বিটিআরসির কাছে জমা পড়েছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, গ্রাহকদের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের জানিয়ে প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হবে। যদি কোনো অপারেটর প্রতিকার না করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিটিআরসির আগের গণশুনানিতে আসা ২৫ সমস্যার সমাধান হয়েছে ৬০ভাগ

গ্রাহকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রতি বছরই বিটিআরসি গণশুনানির আয়োজন করে। গ্রাহকরা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন কি-না সেটা সরাসরি তাদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়।

এই গণশুনানিতে প্রায় এক হাজার মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন। ভার্চুয়ালি এই আয়োজনে নানা অসুবিধার কারণে অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করে অংশ নিতে পারেননি। তবে তারা আগেই প্রশ্ন পাঠিয়েছিলেন। তাদের সেই প্রশ্নগুলোর জবাব তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া গ্রাহকদের যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলোও আমরা অপারেটরদের পাঠিয়ে সমাধান করতে বলব। যদি কোনো অপারেটর অভিযোগের সুরাহা না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গ্রাহকদের অভিযোগের মধ্যে উঠে আসে রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটকের সেবার মান খারাপ নিয়ে। টাঙ্গাইল থেকে একজন গ্রাহক বলেন, অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক সেবা উন্নত হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। এতে বিভিন্ন ফি দিতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তিবায়িত হলে আগামী দিনে ভালো সার্ভিস পাওয়া যাবে। তবে গ্রামীণফোন বা রবির অবস্থায় যেতে আরো সময় লাগবে। কারণ বেসরকারী অপারেটরদের বিনিয়োগ অনেক বেশি।

গণশুনানিতে নেটওয়ার্ক সমস্যা, ইন্টারনেটে ধীরগতি, অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া, কলড্রপ, এমএনপি সেবায় ভোগান্তি ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য নিয়ে অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। বিটিআরসির পক্ষ থেকে প্রতিকারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুর ২টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা চলে এই গণশুনানি। এবার গণশুনানিতে ২৬টির বেশি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। গণশুনানিতে সোহাগ কায়সার নামে একজন নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলের এমএনপি সেবা নিয়ে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলেন, এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে গেলেও কয়েক দিন পর নেটওয়ার্ক চেইঞ্জ হয়, এতে ভোগান্তিতে পড়েছিলাম। সিপু সাহা নামে এক গ্রাহকের অভিযোগ, গ্রামীণফোন থেকে ১৬৮ টাকা অতিরিক্ত ব্যালেন্স কেটে নেওয়ার পর অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

No description available.

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে চাঁদপুর থেকে যুক্ত হওয়া অ্যাডভোকেট নিয়ামুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, টাওয়ারের ১ কিলোমিটারের মধ্যে থেকেও নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না বিভিন্ন অপারেটরের। এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। আবদুল্লাহ মাহমুদ নামে একজন জানতে চান, মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে বিনা নোটিসে ছাঁটাই করা হচ্ছে—এ বিষয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের বাদ দিয়ে অনিবন্ধিত থার্ড পার্টি দিয়ে কাজ করাচ্ছে গ্রামীণফোন। ফলে সেবার মান খারাপ হচ্ছে। পাভেল আহমেদ মোবাইল কলে ভ্যাট ও সারচার্জ বেশি কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

আবদুল কাইয়ূম নামে বাংলালিংকের এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, না জানিয়ে একটি সেবায় যুক্ত করে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। শুনানিতে মালেক নামে একজন অভিযোগ করে বলেন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগে এলাকায় এলাকায় পেশিশক্তি দেখানো হচ্ছে। ইচ্ছামতো যে কারো লাইন নেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া আইএসপিগুলো তাদের ইচ্ছেমতো দাম রাখছে।

গতকালের গণশুনানিতে বিটিআরসি মহাপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ ২০১৯ সালের গণশুনানির ২৫টি প্রশ্নের বিষয়ে অগ্রগতি তুলে ধরেন। এছাড়া গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অন্য মহাপরিচালকরা।

ইত্তেফাক/টিআর