গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুইটি ফেরিঘাটসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ ও ড্রেজিং করার পর বিআইডব্লিউটিএ বলেছে নাব্যতা সংকটে এ পথে ফেরি চলাচল সম্ভব নয়। তাই এই প্রকল্পটি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও লুটপাট ছাড়া আর কিছু নয়।
এই অপচয়ের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও বিচার এবং এই রুটে ব্রহ্মপুত্র সেতুর দাবিতে আজ সোমবার (২৩ আগস্ট) বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করেছে গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চ। এ সময় সড়কে উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পরে। দুপুরে গাইবান্ধা জেলা শহরের ডিবি রোডের গানাসাস মার্কেটের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নাগরিকরা ওই এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ বাধা দেয়। কিন্তু পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ চলে এবং পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
নাগরিক মঞ্চের সিনিয়র সদস্য ওয়াজিউর রহমান রাফেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মিহির ঘোষ, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মারুফ মনা, নাগরিক মঞ্চের সদস্য সচিব ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ, ব্রহ্মপুত্র সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. আশরাফ আলী প্রমুখ।
এ সময় জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মিহির ঘোষ বলেন, এত বিপুল অর্থের একটি প্রকল্প কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ও সম্ভাব্যতা পরীক্ষা ছাড়াই টাকাগুলো ব্যয় করা হলো? নাকি লুটপাটের স্বার্থে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গাইবান্ধার মানুষ তা জানতে চায়।
নাগরিক মঞ্চের সদস্য সচিব ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, এ ঘটনার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গাইবান্ধাবাসীর সাথে প্রতারণা ও তামাশা করলেন! তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে এই ১৪৫ কোটি টাকা অপচয় লুটপাট ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সেইসঙ্গে বক্তারা সমাবেশ থেকে এই রুটে অবিলম্বে ব্রহ্মপুত্র সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতুর বিকল্প পথ তৈরি করা হবে- এমন যুক্তি দেখিয়ে ২০১৪ সালে 'বালাসী ও বাহাদুরাবাদে ফেরিঘাটসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ' শীর্ষক এক প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়। ডিপিপিতে বলা হয়, এ রুটে ফেরি চালু হলে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর সৃষ্ট অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে স্থানভেদে ১০০ থেকে ১৭০ কিলোমিটার কমে যাবে। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের অক্টোবরে একনেক সভায় অনুমোদন পায়। ওই সময়ে ব্যয় ধরা হয় ১২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। যার মেয়াদ ধরা ছিল ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
পরবর্তী সময়ে প্রকল্প দুইবার সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি ২ লাখ টাকা এবং মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এর আওতায় জমি অধিগ্রহণ, পার্কিং ইয়ার্ড, ফেরিঘাট, ইন্টারনাল রোড ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং জামালপুরের বাহাদুরাবাদ থেকে গাইবান্ধার বালাসী পর্যন্ত ফেরি রুট খনন করা হয়। কাজ শেষ হয় গত জুন মাসে। তারপর বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটটি ফেরি চলাচলের উপযোগী নয় বলে প্রতিবেদন দেন বিআইডব্লিউটিএ গঠিত একটি কারিগরি কমিটি।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
