অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় আফগানরা

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩৯

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় আসায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে আফগানরা। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তায় রয়েছেন দেশটির নারীরা। তাদের আশঙ্কা, ফিরে আসতে পারে দুই যুগ আগের তালেবান আমলের কড়াকড়ি। ইতিমধ্যেই কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে নারীদের পর্দা রক্ষায়।

মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সরকারের ২৫ বছরের শাসনামলে শিক্ষা, কাজের সুযোগসহ যেসব অধিকার আফগান নারীরা অর্জন করেছে, তা আবারও খর্ব হওয়ার ভয় তাদের মাঝে। এরই মধ্যে বিভিন্ন শহরে তালেবানের রোষানলে পড়েছেন অসংখ্য আফগান নারী। জাতিসংঘও জানিয়েছে, বড় ধরনের মানবিক সংকটের মুখে আফগানিস্তান।

Taliban parade in Kabul airport after US leave

কাবুল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছেন তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ —ডেইলি মেইল

আফগান নারী অধিকার কর্মী তারান্নুম সাঈদি বলেন, আবারও সবকিছু হারানোর পথে আমরা। তালেবান ক্ষমতায় এলে আমরা কেউই টিকতে পারব না। জানি, আমাদের হত্যা করা হবে। এদিকে ভিটেমাটি থেকে অনেকেই এক কাপড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেকে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় পেছনে ফেলে এসেছেন। কেউ কেউ রাতে ঘুমানোর জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ছোট তাঁবু পেলেও অনেক পরিবারের শিশু ও নারীদেরও রাত কাটাতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে।

রাজধানীতে পুরো দেশ থেকে হাজার হাজার শরণার্থী জড়ো হওয়ায় আবাসন সংকটের পাশাপাশি খাবার সংকটও দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলেও তাতে বিপুল পরিমাণ চাপ সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। সংঘর্ষ চলতে থাকা এলাকা থেকে পালিয়ে আসা অনেকেই আহত। বেশ কিছু শিশু গোলা ও বোমার আঘাতে আহত অবস্থায় কাবুলে এসেছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান তাদের জন্য কাবুলের পার্কে অস্থায়ী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সাসেবার ব্যবস্থা করেছে।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদায় পর্বের প্রসঙ্গে বিবিসি সংবাদদাতা লিস ডুসেটের মতে, ৪০ বছর ধরে যুদ্ধ চলার পরও আফগান জনগণ আজকের মতো এতটা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েননি। তাদের জীবনে এতটা অন্ধকারে ঢেকে যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের জীবনে কী ঘটবে তা বলা খুবই কঠিন। যেসব আফগান দেশ ত্যাগ করতে পেরেছেন, তারা ভাবছেন আবার কোনো দিন কী তারা ফিরতে পারবেন? দেশে রয়ে গেছেন যে ৩ কোটি ৮০ লাখ আফগান, আগামী দিনগুলোতে তালেবান শাসনের কী রূপ তারা দেখতে পাবেন তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

ইত্তেফাক/টিআর