গত এক সপ্তাহ যাবৎ উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এবং অতি বৃষ্টির কারণে ঝিনাই নদীর পানি টাঙ্গাইলের বাসাইল পয়েন্টে বিপদ সীমার ৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার কারণে প্লাবিত হচ্ছে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো, সেই সঙ্গে বাড়ছে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ নিম্নাঞ্চলের ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। উপজেলার বানভাসী মানুষদের এখন একমাত্র ভরসা নৌকা।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট এবং পানির প্রবল স্রোতে এরই মধ্যে ভেঙে গেছে উপজেলার কাঞ্চনপুর এলাকার একটি কালভার্ট। দুইদিন আগে বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়কের বাসাইল দক্ষিণ পাড়া এলাকায় সড়ক ভেঙ্গে তিনটি ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সড়কটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ হিসাবে ব্যবহার হতো। তাই বাধটি ভেঙ্গে নতুন করে বাসাইল উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ১০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও মাছের ঘের। পানিবন্দী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

সালেকিন নামে এক স্কুল ছাত্র জানায়, ঔষধ কিনতে চাইলেও বাসাইল যেতে হয়। এখন তো বাড়ি থেকে বের হলেই নৌকা লাগে তাই আমাদের নৌকা ছাড়া এখন কোনো উপায় নাই।
বিরেন নামে এক দোকানী বলেন, বাসাইল বাজারে মুদি দোকান করি, সকাল সকাল দোকানে যেতে হয়। এতো সকালে নৌকা পাওয়া যায় না তাই অনেক সমস্যার মধ্যে আছি। আমাদের পাকা রাস্তাটি যদি ৩ ফিট উঁচু থাকতো তাহলে বাসাইলের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের এই দূর্ভোগ পোহাতে হতো না।
এ প্রসঙ্গে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল জলিল জানান, নিচু হওয়ায় প্রতি বছরই রাস্তাটিতে পানি উঠে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে রাস্তাটি উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পৌর মেয়র আব্দুর রহিম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ২ হাজার মানুষের মাঝে চাল এবং নগদ টাকা কয়েকদিনের মাঝেই পৌঁছে দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর হোসেন জানান, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম জানান, নিম্নাঞ্চল হওয়ায় প্রতিবছরই পানি বন্দি হয় কয়েক গ্রামের মানুষ। নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। আর কয়েকটি রাস্তার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজ এবং রাস্তাগুলোর কাজ শেষ হলেই মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে।
ইত্তেফাক/এমএএম
