বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান মনে করেন, করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক বাস্তবতায় নদীপথে বাণিজ্য বৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য আরো বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বিনিয়োগের ৮০ শতাংশই হচ্ছে উন্নত দেশগুলোতে। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে ১২ শতাংশ। এ অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

গতকাল মঙ্গলবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয় আয়োজিত ‘রিজিওনাল কো-অপারেশন ডায়লগ সিরিজ’-এর প্রথম পর্বে ‘প্রমোটিং ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ :প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শিরোনামে ওয়েবিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উন্নয়ন সমন্বয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই ওয়েবিনারে সংস্থার পক্ষ থেকে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ এসোসিয়েট-অয়ন সুফি।

ভুটান, বাংলাদেশ ও ভারত থেকে নদীপথে বাণিজ্য বিষয়ক গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তারা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য মাহবুব উদ্দীন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, নদীপথে বাণিজ্য সহজীকরণ সম্ভব হলে এ অঞ্চলের সব দেশই যেহেতু তার সুবিধাভোগী হবে তাই সব পক্ষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি। কলকাতার বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক সোমা মিত্র পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদীপথে পণ্য পরিবহন সহজতর করার মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দরের ওপর চাপ কমানোর সম্ভাব্যতা তুলে ধরেন। বিআইডব্লিউটিএ-এর সাবেক পরিচালক সৈয়দ মনোয়ার হোসেন নদীপথে বাণিজ্যের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভারতের কাটস ইন্টারন্যাশনালের পলিসি অ্যানালিস্ট অর্নব গাঙ্গুলি মনে করেন নদীপথে বাণিজ্যে ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়াতে বেশি বেশি পাইলট ভয়েজ পরিচালনা করে ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা এবং সে অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ পৃথ্বীরাজ নাথ বলেন, নদীপথে বাণিজ্য সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণের সময় অবশ্যই এসব উদ্যোগের পরিবেশগত এবং সামাজিক প্রভাবের দিকগুলো আলাদাভাবে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
ইত্তেফাক/কেকে
