বরিশালের বাকেরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ১৭০ জন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষকের খালি পদগুলোর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কাজ চালিয়ে নিলেও পাঠদানের ব্যবস্থা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুললে তখন শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
বাকেরগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় ১৪ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ২৮০ পদের ৫২টিই শূন্য রয়েছে। আর সহকারী শিক্ষকের মঞ্জুর হওয়া ১ হাজার ৩২৬ পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১১৮ পদ। এর মধ্যে ফরিদপুর, দুর্গাপাশা ও নলুয়া ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ বেশি শূন্য।
বাকেরগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাব স্বপন তলুকদার বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এসব শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ না দিলে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান দেওয়া সম্ভব হবে না।’
নলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম খান বলেন, ‘দুর্গম অঞ্চল খ্যাত ইউনিয়নগুলোতে শিক্ষক এসে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে দ্রুত বদলি হয়ে অন্য এলাকায় চলে যান। যা এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এই সংকট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
ফরিদপুর ইউনিয়নের ৩৭ নম্বর ইছাপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার স্কুলে ১৯০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য মাত্র দুই জন শিক্ষক রয়েছি। স্কুল খুললে সবদিক কিভাবে সামাল দেবো, বুঝতে পারছি না।’
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষক নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।’
বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার খোন্দকার জসিম আহমেদ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকা জেলা অফিসে পাঠিয়েছি। চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ হলে সংকটের সমাধান হবে।’
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মজুমদার বলেন, ‘সরকারিভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।’ এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চাহিদা অনুযায়ী শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এনই/এসজেড
