শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। বেশ কয়েকটি সফল ছবিও উপহার দেন তারা। সে সময় শাকিব ছাড়া তার অভিনয় না করাসহ নানা গুঞ্জনও ডালপালা মেলে। তবে মাঝে বিরতি দিয়ে একাধিক নায়কের সঙ্গে কাজে নিয়মিত হয়েছেন তিনি। নিজের নতুন ছবি, অন্য হিরোর সঙ্গে অভিনয়, শাকিব প্রসঙ্গসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
‘তালাশ’ শিরোনামের একটি ছবির শুটিং শেষ করলাম। এছাড়া করোনার কারণে আটকে থাকা ‘লিডার আমিই বাংলাদেশ’, ‘রিভেঞ্জ’ ছবি দুটির বাকি কাজ শিগগিরই শুরু করব। পাশাপাশি আমার ‘ক্যাসিনো’, ‘বিদ্রোহী’, ‘চোখ’ ছবিগুলো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

ইদানিং শাকিব খানের বাইরে অন্য হিরোদের সঙ্গেও কাজ করছেন। এটা কী নিজেকে প্রমাণ করার জন্য?
না, বিষয়টি আসলে তেমন না। আসলে প্রথমদিকে আমরা বেশ কয়েকটি ছবি করেছি। এখনো করছি না, তা-ও কিন্তু না। আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি গল্প, নির্মাতা ভালো হলে সবার সঙ্গেই কাজ করব। যেহেতু আমি একজন শিল্পী এবং ভালো কিছু কাজ করতে চাই, সেহেতু সবার সঙ্গে কাজ করার চিন্তা আমার আছে।
শাকিব-বুবলী জুটির জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা অন্যদের সঙ্গে ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে করেন?
শাকিব-বুবলী জুটির মতো শুধু একজনের সঙ্গে বেঁধে কিন্তু এখন কাজ করছি না। একেক ছবিতে একেক হিরোর সঙ্গে অভিনয় করছি। আর জুটি বিষয়টি আসলে দর্শকদের ওপর নির্ভর করে। কাজটি তারা কীভাবে দেখতে চায় সেটা তারাই নির্ধারণ করবে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে শাকিব খান ছাড়া কোনো ছবিতে আপনাকে দেখা যায়নি। কিন্তু এখন তার সঙ্গে কম কাজ করছেন। এর কারণ কী?
প্রথমত, জুটি হিসেবে কাজ করলে তাদের নিয়ে অনেক কথাই হয়। আবার যখন একসঙ্গে কাজ কম করা হয় তখন সেটা নিয়েও সমালোচনা হয়। কাজ করতে গেলে এমন আলোচনা-সমালোচনা চলবেই।
আপনাদের সঙ্গে সিনিয়র শিল্পীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এখন কেমন?
এদিক থেকে আমি খুবই সৌভাগ্যবান। শুরু থেকেই সবার সহযোগিতা, পরামর্শ পাচ্ছি। সিনিয়রদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি কাজের সুযোগ পাওয়ায় অনেককিছু তাদের কাছ থেকে শিখতে পেরেছি। সিনিয়রদের আমি শিক্ষক মনে করি।
দেশের প্রেক্ষাপটে ওটিটির সম্ভাবনা এবং মাধ্যমটি নিয়ে বুবলীর ভাবনা কী?
সময়ের সঙ্গে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সময়ের ব্যবধানে মাধ্যম পরিবর্তিত হবে, কাজের পরিধি বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এতে করে কাজের ক্ষেত্রে একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, ভালো কাজের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এরই ভেতরে অনেকেই ভালো কাজ করছেন। পছন্দমতো গল্প, চরিত্র পেলে আমিও ওটিটিতে কাজ করব।
কিন্তু হল সংকটের এই সময়ে শুধু ওটিটি নির্ভরতা সংকটকে তরান্বিত করবে কি-না?
ছোট একটি ডিভাইসে কিন্তু হলের মজা পাওয়া যাবে না। তাই আমার মনে হয় ছবির জন্য হলকে এগিয়ে রাখতে হবে। হলের পাশাপাশি ওটিটি চলচ্চিত্রের একটি বিকল্প মাধ্যম হতে পারে।
বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ওটিটি চলচ্চিত্র সংকট কতটা দূর করতে পারবে?
এটা আসলে সময়ই বলে দেবে। আরো কিছুদিন গেলে বোঝা যাবে মাধ্যমটি কোনদিকে যাচ্ছে। কতটা সফলতার মুখ আমরা দেখতে পাচ্ছি। সবাই মিলে মানসম্মত ছবি নির্মাণ ও রিলিজ দিলে ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো কিছুই হবে।
নতুন ছবি মুক্তির খবর না থাকায় হলের ভবিষ্যত্ কোনদিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন?
হলে ছবি দেখার পরিবেশ তৈরি করা গেলে নিশ্চয় দর্শকরা হলমুখী হবে।
চলচ্চিত্রের এই সংকটের জন্য বুবলী কাকে দায়ী করবেন?
আসলে এটি একটি টিম ওয়ার্ক। এমন অবস্থার জন্য শুধু মানহীন গল্প, নির্মাণ দুর্বলতা বা অভিনয়কে দোষ দেওয়া যাবে না। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকলেরই কিছু না কিছু দায় রয়েছে।
ইত্তেফাক/টিআর
