‘পোড়ামন টু’, ‘দহন’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করে অল্প দিনেই নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। বর্তমানে একাধিক ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই অভিনেতা অভিনয় নিয়ে নিজের পরিকল্পনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
‘অন্তর্জাল’ ছবির শুটিং করছি। পাশাপাশি ‘মৃধা বনাম মৃধা’ ছবিটির ডাবিং চলছে। এই কাজগুলো শেষ করে হাতে থাকা ‘বায়োপিক’সহ অন্য ছবিগুলোর শুটিং শুরু করার হচ্ছে রয়েছে। এছাড়া ‘শান’, ‘পাপ পূণ্য’, ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’সহ বেশ কয়েকটি ছবির কাজ শেষ করেছি। পরিস্থিতি ভালোর দিকে গেলে হয়তো ছবিগুলো মুক্তি পাবে।

ইদানিং বেশিরভাগ তারকা গল্প নির্ভর কাজে মনোযোগী হচ্ছেন। এটাকে দর্শক রুচির পরিবর্তন, নাকি সময়ের চাহিদায় বলবেন?
প্রতিটি জিনিসের একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। আমার মনে হয়, এখন গল্পের সময় চলছে। এখন কোনো কনসেপ্ট বা প্রপার কোনো গল্পের প্লট ছাড়া ছবি বানিয়ে ফেললে হবে না। করোনার কারণে হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক, মাঝে আমাদের রুচির পরিবর্তন হয়েছে অনেক। সেই জায়গা থেকে বলবো, সবকিছুর একটা শক্ত ভিত দরকার আছে। এমন পরিবর্তন নিঃসন্দেহে চলচ্চিত্রের জন্য ইতিবাচক।
ওটিটিতে দেশীয় তারকাদের সেভাবে দেখা না যাওয়ার কারণ হিসেবে কী বলবেন?
অন্যের কথা তো আমি বলতে পারব না। তবে আমার কাছে যদি মনে হয় কোনো প্রজেক্ট আমি করতে পারব বা আমাকে টানছে তখন কিন্তু আমি সেই কাজটি করছি। কোনো গল্প পছন্দ হচ্ছে না, শুধু ডিজিটাল প্লাটফর্মে কাজ করার জন্য করা, এমন কাজ করতে চাই না।

ওটিটি নিয়ে সিয়ামের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা কী?
ওটিটি নিয়ে আমার প্রত্যাশা সবসময়ই ইতিবাচক। তবে পরিকল্পনা বা কী করব সেটা এখনো ঠিক জানি না। কারণ একটি চলচ্চিত্র তো টিম ওয়ার্ক। সব কিছু মিলে যাওয়ারও একটি ব্যাপার থাকে। সেই টিমটি যদি ভালো হয় তাহলে নিশ্চয় পরবর্তীতে ভালো কাজ হবে ইনশাল্লাহ।
এই মাধ্যমটি চলচ্চিত্র সংকট নিরসনে কতটা সহায়ক হবে বলে মনে করেন?
দেখুন, সিনেমা হলের বিকল্প আসলে ওটিটি না। হলে বসে সিনেমা দেখার আনন্দ কিন্তু ঘরে বসে পাওয়া সম্ভব না। ওটিটি বিনোদনের মাধ্যম হলেও এর কন্টেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা। বলতে পারেন, বিনোদনের আলাদা একটি মাধ্যম আমরা পেয়েছি। সিনেমা কিন্তু সিনেমার জায়গায় রয়েছে। আমার মনে হয়, আমাদের সিনেমার অনেক স্বাদ পাওয়া বাকি আছে, অনেক গল্প বলার আছে। আমি নিজেও সেগুলো দেখার অপেক্ষায় আছি।

দীর্ঘদিন পর নতুন ছবি মুক্তি কী দর্শকদের হলমুখী করতে পারবে?
এটা মুক্তির পর বোঝা যাবে। এমনিতেও ভালো ছবি, হল কমে যাওয়াসহ নানা সংকটের ভেতর দিয়ে আমরা যাচ্ছিলাম। তার ওপর করোনার প্রভাব পড়েছে। এখন দর্শকরা সিদ্ধান্ত নেবেন তারা চলচ্চিত্রকে কোথায় দেখতে চান! আমাদের ভালো কাজ উপহার দেওয়া যেমন দায়িত্ব তেমনি দর্শকদের সাপোর্টও দরকার আছে।
চলচ্চিত্র প্রচারণায় অনিহা নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যা আমি নিজেও মোকাবেলা করেছি। ছবিটি কবে মুক্তি দেব, কাদের জন্য বানাচ্ছি—এমন ছোট ছোট অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলো আগে থেকেই ঠিক করতে হয়। এখন ২ বছর আগের করা একটি ছবি হটাত্ করে মুক্তি দেবেন, কিন্তু ছবিটির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা জানেন না, তাহলে তো হবে না। কারণ সে সময় তারা অন্য ছবির শুটিংয়ে তো ব্যস্ত থাকতে পারে। প্রচারণায় অংশ নেওয়া তো সম্ভব নয়। তাছাড়া ছবি প্রচারণার বাজেট রাখতেও আমরা ভুলে যাই।

চলচ্চিত্র সংকটের জন্য কাকে দায়ী করবেন? এর থেকে উত্তরণের উপায় কী বলে মনে করেন?
আমি আসলে কাউকেই দায়ী করব না। কারণ আমার কাজে যদি আমি ব্যর্থ হই তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় আমার, আমার টিমের। দর্শকরা তাদের জায়গায় ঠিক। আমরা যদি তাদের নতুন কিছু না দিই তাহলে তারা কেন জোর করে হলে আসবে। আমাদের নির্মাণ থেকে শুরু করে কারিগরি দক্ষতা, গল্পের বৈচিত্র্যতা, প্রচারণাসহ সবকিছুর মান আমাদের বাড়াতে হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
