নগদ অর্থের অভাবের কারণে আফগানিস্তানের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশটির আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখন যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে সফররত নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল জন এজল্যান্ড।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ইসলামিক ব্যাংক অব আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মোসা কালিম আল-ফালাহি বলেন, তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই গ্রাহকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলে দেশটির আর্থিক খাতগুলো তীব্র অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

এদিকে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো আন্তর্জাতিক তহবিল বন্ধ করে দেয়। এছাড়া বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে আফগানিস্তানের যে অর্থ ছিল তাও জব্দ করে রাখা হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি অনুদানের উপর নির্ভরশীল এই দেশের মোট দেশজ আয়ের ৪০ শতাংশই আসে আন্তর্জাতিক সহায়তা থেকে। কিন্তু তালেবান ক্ষমতা দখলের পর পশ্চিমা দেশগুলো আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক তহবিল এবং সম্পদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে সেই অর্থে হাত দিতে পারছে না তালেবান।
সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রয়াত্ত সংবাদ মাধ্যম ‘গ্লোবার টাইমস’ এর এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার ‘প্রচুর সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র’ রয়েছে এবং এক্ষেত্রে চীন ‘এগিয়ে রয়েছে’।

তবে এখন তালেবান আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, আফগানি মুদ্রার মান কমে গেছে। অনেক মানুষ তাঁদের চাকরি হারিয়েছেন এবং নগদ অর্থের অভাব রয়েছেন।
ইত্তেফাক/এএইচ
