সেচ লাইসেন্স থাকলেও মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ, অনাবাদীর আশঙ্কা ৫ হাজার একর জমি

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৪৮

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সেচ কমিটির অনুমোদন পেলেও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের জটিলতায় মিলছে না বিদ্যুৎ সংযোগ। এতে বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষক। প্রায় ৫ হাজার একর জমি অনাবাদী থাকতে পারে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।
 
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ করা হয়েছে। অন্য জমিগুলো ধান রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। 

বিএডিসির দেওয়া তথ্য মতে, গত বছরের আবেদনসহ চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ১১৫টি আবেদন সেচ কমিটির কাছে আবেদন জমা দিয়ে ছিলেন কৃষকেরা। এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে বিএডিসির কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দেখে এ উপজেলায় ৮৪টি আবেদন সেচ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কাংশা ইউনিয়নে ২৯টি সেচ কমিটির অনুমোদন মেলে। কিন্তু সেচ কমিটির অনুমোদন পেলেও মিলছে না বিদ্যুতের সংযোগ।

সরেজমিনে কাংশা ইউনিয়নের কৃষক মুসা, হাবিবুর, মুক্তার, ইউনুসসহ অনেকেই জানান, আবেদন করে উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কৃষকরা গভীর নলকূপ স্থাপন করে মাসের পর মাস অপেক্ষা করছে। তবু মিলছেনা সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে কোনো ধরনের সুরাহা না পেয়ে বিপাকে আছি।
  
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘শুধু মাত্র পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতির কারণেই মিলছেনা তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আমাদের হয়রানী করছে।’ 

শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মাশরুল হক খান বলেন, আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ২০১৮ সালের আবেদন গুলোতে সংযোগ দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালের আবেদন গুলো সার্ভে এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেবো। 

আরো পড়ুন: পাকিস্তানে পৌঁছল সৌদি যুবরাজের 'রহস্যময়' পাঁচ ট্রাক

গ্রাহকদের হয়রানী করা হচ্ছে এবং আবেদন গ্রহণের সময় কোনো ধরণের রশিদ প্রদান করা হয় না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্ভে শেষে আমরা আবার ১০০ টাকার ফর্মে আবেদন নেবো।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, এ মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। সময় মতো বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলে শত শত একর জমি অনাবাদী থেকে যাবে। আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

ইত্তেফাক/অনি