উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খিরিতে গাড়িচাপায় চার কৃষক নিহতের ঘটনায় এখনো উত্তপ্ত ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্র কৃষকের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে দ্রুত গতিতে গাড়ি তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আশিস মিশ্রর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনাটি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আমলে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি এনভি রমনার বেঞ্চে শুনানি হবে।
এদিকে, নৈতিক দায় নিয়ে অজয় মিশ্রকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। একই সঙ্গে তার ছেলেকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যেই বুধবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র। কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্র বলেছে, অজয় মিশ্রর পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি ইতিমধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বুধবার দিল্লির নর্থ ব্লকে অজয় মিশ্রকে ডেকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা আপাতত নেই।

অন্যদিকে, বুধবার রাতে লখিমপুর খিরির নিহত কৃষক ও সাংবাদিকদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি এমপি রাহুল গান্ধী এবং উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এর আগে দুপুরে রাহুল গান্ধীকে লখিমপুরে যাওয়ার অনুমতি দেয় উত্তর প্রদেশ সরকার। একই সঙ্গে ৫৯ ঘণ্টা আটক করে রাখার পরে মুক্তি দেওয়া হয় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে।
উত্তর প্রদেশের যোগী সরকার জানিয়েছে, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ মোট পাঁচ জন লখিমপুরে যেতে পারবেন। রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিত্ চন্নী, কে সি ভেনুগোপাল, রণদীপ সুরজেওয়ালা এবং দিপেন্দর হুডা লখিমপুরে যান। এর আগে দুপুরে লখনউ বিমানবন্দরে নামার পর পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ হয় রাহুল গান্ধীর। তিনি পুলিশের নির্ধারিত রুটে ঘটনাস্থলে যেতে আপত্তি জানান। তিনি নিজের গাড়িতে করেই যেতে চান। এরপর সীতাপুর থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। বুধবার সন্ধ্যায় লখিমপুর খিরিতে পৌঁছায় আম আদমি পার্টির একটি প্রতিনিধিদলও।
ইত্তেফাক/টিএ
