কেন অন্ধকারে লেবানন

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২১, ২৩:৫৪

লেবাননে বিদ্যুৎ নেই। মারাত্মক অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে থাকা দেশটি এখন বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। গত ১৮ মাস ধরে লেবানন বড় ধরনের অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটিতে জ্বালানির চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, দেইর আম্মার এবং জাহরানিতে অবস্থিত দেশটির সবচেয়ে বড় দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির বিদ্যুতের গ্রিড শনিবার দুপুর বারোটার সময় সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে এবং আগামী বেশ কয়েকদিনের আগে সেগুলো আবার চালু করা সম্ভব হবে না বলে সরকার জানিয়েছে।

Lebanon plunges into darkness after running out of electricity - JRT Post

অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলে দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দেশটিতে মুদ্রা সঙ্কট তৈরি হয়েছে এবং রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আকারে বিক্ষোভ প্রতিবাদ চলছে। দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যাপক ঘাটতির ফলে বিদেশী জ্বালানি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে জ্বালানি কেনার অর্থও দেশটির কোষাগারে নেই।

লেবাননের অনেক মানুষকে জীবনধারণের জন্য এখন ডিজেল চালিত ব্যক্তিগত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি সঙ্কটের ফলে ক্রমশ এসব জেনারেটর চালানোও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়াও জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড অচল হয়ে পড়ায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য এসব জেনারেটরও এখন যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। বেসরকারি ভিত্তিতে সরবরাহ চালু রাখতে যারা জেনারেটরের ব্যবসা করেন, তারাও বলছেন - জ্বালানি সঙ্কটের কারণে তাদের সেবাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

Turkish company halts power supplies to crisis-hit Lebanon - New Delhi  Times - India Only International Newspaper

এমনকি শনিবার গোটা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরো বন্ধ হয়ে যাবার আগেও লেবাননের মানুষ বেশিরভাগ সময়ই দিনে মাত্র দু'ঘন্টা করে বিদ্যুৎ পাচ্ছিলেন।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিও এক বিবৃতিতে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেবার খবর নিশ্চিত করেছে। এই দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র একসাথে লেবাননের ৪০% বিদ্যুতের যোগান দিত।

জানা যাচ্ছে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে এই দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেবার ফলে বিদ্যুতের নেটওয়ার্ক পুরো অচল হয়ে গেছে এবং এই মুহূর্তে সেগুলো আবার চালু করার কোন সম্ভাবনাই নেই।

ইত্তেফাক/এএইচপি