মন্ত্রিপরিষদসহ ৪ সচিবের বিরুদ্ধে রুল

৭০০ একর বনভূমির লিজ স্থগিত

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ২৩:২৪

কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন শুকনা ছড়িতে প্রশাসন একাডেমির নামে ৭০০ একর বনভূমির লিজ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। 

সোমবার (১১ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত অবকাশ কালীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সাথে মন্ত্রীপরিষদ সচিব, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বন সচিব, ভূমি সচিবকে এ বিষয়ে জবাব দিতে রুল জারি করা হয়েছে।

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি ও বন্দোবস্তি বাতিল চেয়ে রিটকারি আ ন ম হেলাল উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা যায়, ‘প্রশাসন একাডেমি’ নামক একটি সংগঠনের নামে কক্সবাজার শুকনা ছড়ি এলাকার ৭০০ একর বনভূমি লীজ দেয়া হয়। নামমাত্র মূল্যে এ বিশাল বনসম্পদ লিজের বিষয়টি জানাজানি হলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয়রা। লীজ বাতিলের দাবি নিয়ে কক্সবাজার নাগরিক ফোরামসহ পেশাজীবী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা কক্সবাজারের স্বার্থ বিরোধী ও পরিবেশ ধ্বংস হতে পারে এমন সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করে বনভূমি লীজ বাতিল করার দাবি জানান। যদি প্রশাসন একাডেমির নামে পাহাড়ি বনভূমির বিশাল জমি লীজ দেয়া হয় তবে পাহাড় ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলেও দাবি করেন তারা।

এরই প্রেক্ষিতে গেল সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হয় (রিট নং-৭৬০১/২১)। সোমবার (১১ অক্টোবর) দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার অবকাশকালীন বেঞ্চ লিজ আদেশের উপর তিন মাসের স্থগিত আদেশ দেন। একই সাথে এ সংক্রান্ত জবাব দিতে ৪ সচিবের বিরুদ্ধে রুলনিশি জারি করেছেন। হাইকোর্টের আইনজীবী একে এম মনিরুজ্জামান কবির রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন। 

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত ঘেরা বনভূমি শুধু কক্সবাজারের সম্পদ নয়, এটি জাতীয় সম্পদ। প্রাকৃতিক এ সম্পদ ধ্বংস করে প্রশাসনিক একাডেমি নির্মাণ কখনো সমর্থনযোগ্য নয়। মহামান্য হাইকোর্টের সোমবারের আদেশ কক্সবাজারবাসির প্রাথমিক বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন নাগরিক ফোরামের সভাপতি।

ইত্তেফাক/এমএএম