আইপিএলের ১৪তম আসরের ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বুধবার (১৩ অক্টোবর) শারজাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে তারা। আগামী শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ চেন্নাই সুপার কিংস।
নকআউট ম্যাচ সম্ভবত এটাকেই বলে। নয়তো সবাই যেখানে সহজেই কলকাতার জয় দেখছিল, সেখানে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে হারের শঙ্কা জেগে বসেছিল দলটির সমর্থকদের। ভাগ্যিস, ক্রিজে তখনো রাহুল ট্রিপাটি। ২০তম ওভারের পঞ্চম বলে এসে ছক্কা মেরে কলকাতাকে ফাইনালে তুললেন তিনি।
WHAT. A. FINISH! ???? ???? @KKRiders hold their nerve and seal a thrilling win over the spirited @DelhiCapitals in the #VIVOIPL #Qualifier2 & secure a place in the #Final. ???? ???? #KKRvDC
— IndianPremierLeague (@IPL) October 13, 2021
Scorecard ???? https://t.co/eAAJHvCMYS pic.twitter.com/Qqf3fu1LRt
১৩৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন কেকেআরের দুই ওপেনার শুভমান গিল এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তাদের দুজনের ব্যাট থেকে এসেছে ৯৬ রান। তখন ৫৫ রান করে আউট হয়ে যান আয়ার। এরপর দলীয় ১২৩ রানের মাথায় আউট হন নিতিশ রানা। ওই মুহূর্তে কলকাতার জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ১৩ রান, আর হাতে ৮ উইকেট এবং ২৪ বল। সেই সময়ই ম্যাচটা প্রায় ঘুরিয়ে দিয়েছিল দিল্লির বোলাররা। পরবর্তী ৭ রানের মধ্যে আরও ৫টি উইকেট হারিয়ে বসে কেকেআর। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, শেষ দুই বলে জয়ের জন্য ৬ রান দরকার। ঠিক তখনই ছক্কা মেরে দলকে ফাইনালে তুলেন রাহুল।
এর আগে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন কেকেআর অধিনায়ক ইয়ন মরগান। তার এই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না সেটা পুরো ম্যাচে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এদিন, দিল্লির ব্যাটারদের শুরু থেকেই চেপে ধরে কলকাতার বোলাররা।

প্রথম ওভারেই সাকিবের হাতে বল তুলে দেন মরগান। তিনিও সেটির প্রতিদান দিয়েছেন। কোনো উইকেট না পেলেও মাত্র এক রান খরচ করেছেন। অবশ্য নিজের কোটার পরের দুই ওভারে একটু খরুচে ছিলেন। তবে শেষ ওভারে এসে সেটি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে পেরেছেন। শেষ পর্যন্ত চার ওভারে উইকেট শূন্য থেকে রান দিয়েছেন ২৮। বাবি বোলারদের মধ্যে বরুন চক্রবর্তী ২টি এবং লকি ফার্গুসন ও শিভাম মাভি নেন একটি করে উইকেট। আর তাতেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৫ রানে থেমে যায় দিল্লির ইনিংস।
গত এপ্রিলে ভারতের মাটিতে শুরু হয়েছিল আইপিএলের চলতি আসর। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে মাঝপথেই স্থগিত করে দেওয়া হয়। এটাই যেন কলকাতার ভাগ্য খুলে দিয়েছে। কারণ, ভারতে অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বে ৭ ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই পরাজিত হয়েছিল কেকেআর। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান দ্বিতীয় পর্বে এখন পর্যন্ত মাত্র ২টি ম্যাচ হেরেছে দলটি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলো প্লে-অফে এসেও। এলিমিনেটর ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরুকে বিদায় করার পর এবার কোয়ালিফায়ারে দিল্লির স্বপ্ন ভঙ্গ করলো।
ইত্তেফাক/টিএ
