জনবহুল এলকায় নেই পাবলিক টয়লেট, কমিউনিটি সেন্টার

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৮

শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ আশপাশ এলাকায় আগতদের জন্য পাবলিক টয়লেটের দাবি দীর্ঘদিনের। অথচ টয়লেট করার মতো সিটি করপোরেশনের জায়গা না থাকায় তা তৈরি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এলাকার কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ। জায়গাটি পড়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, তিনি কাউন্সিলর হওয়ার পরে কয়েকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে টয়লেট করার জন্য মৌখিকভাবে জায়গা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া মেলেনি। এই জনবহুল এলাকা শাহবাগে ও দোয়েল চত্বরের দিকেও আরেকটি পাবলিক টয়লেটের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকার মানুষ। কিন্তু জায়াগার অভাবে তা করা সম্ভব হচ্ছে না। পান্থকুঞ্জ পার্কের পাশে একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও এখন এই জনবহুল এলাকায় টয়লেটের দাবি আরো। ওয়ার্ডের মধ্যে অনেক কিছুরই অভাব রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরেকটি দাবি হলো কমিউনিটি সেন্টার। এই এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য একটি কমিউনিটি সেন্টার খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই ওয়ার্ডটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকা জহুরুল হক হল, সলিমুল্লাহ হল, স্যার এ এফ রহমান হল, শামসুন নাহার হল, জগন্নাথ হল, কবি জসীমউদ্দীন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, সূর্যসেন হল, হাজী মোহাম্মদ মুহসীন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, ময়মনসিংহ লেন, ময়মনসিংহ রোড, জাতীয় জাদুঘর অফিসার্স কোয়ার্টার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, হাবিবুল্লাহ রোড, আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস, রোকেয়া হল, পরিবাগ, শাহ সাহেব রোড ও শাহবাগ নিয়ে গঠিত। এই এলাকার ভোটার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। এখানে প্রায় ৩ লাখ মানুষ বসবাস করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেট্রোরেলের কাজের কারণে দোয়েল চত্বর থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত বেশির ভাগ সড়ক ভাঙাচোরা। গর্ত হয়ে অনেক সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। এ ছাড়া কাঁটাবন থেকে সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত সড়কের আশপাশে কাভার্ড ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। একই অবস্থা পরিবাগ মসজিদ থেকে বাংলামোটর লিংকরোড পর্যন্ত। রিকশাসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। দিনের বেলায় টাইলস ব্যবসায়ীরা মালামালও ওঠা-নামা করায় এমনটা হচ্ছে বলে জানা যায়। এতে এলাকায় সব সময় যানজট লেগে থাকে। অন্যদিকে টিএসসির আশপাশে ফুটপাতের কিছু অংশে ময়লার স্তূপ দেখা যায়। তবে নীলক্ষেত থেকে টিএসসির দিকে যেতে একটি বড় গাছের নিচে কয়েকটি ফুলের টবে নজর পড়ে। তাতে লিখে রাখা হয়েছে ‘ময়লা ফেলা নিষেধ।’

এলাকাবাসী জানায়, এখানেও কিছুদিন আগে ময়লা ফেলত মানুষ। পরে কাউন্সিলরের উদ্যোগে ফুলের টব লাগানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘মানুষকে বারবার সচেতন করেও নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলার অভ্যাস করতে পারছি না। আমরা যতই ওয়ার্ডটিকে পরিষ্কার রাখতে চাই ততই মানুষ ফুটপাতে ময়লা ফেলে রাখে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য আমরা ভাসমান ১০টি ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করেছি। যাতে যত্রতত্র মানুষ পানির বোতলসহ অন্যান্যসামগ্রী ফেলে সুন্দর পরিবেশ নষ্ট না করে। আর এই বোতলই পরে পড়ে ড্রেন বন্ধ হয়ে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

সড়কটিতে ট্রাকের কারণে যানজটের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের বারবার বলা ও জরিমানা করার পরেও তারা এই ট্রাক সরায় না। এ জন্য পুলিশের সহযোগিতা দরকার। আমরাও চেষ্টা করছি যানজট, মাদক ও পরিছন্ন ওয়ার্ড গড়ে তুলতে। কিন্তু এর জন্য জনগণকেও আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। তাদের জনসচেতনতা আরো বেশি দরকার। যত্রতত্র ময়লা ফেলার অভ্যাস সবাইকে দূর করতে হবে।’

ইত্তেফাক/বিএএফ