অনেক চাড়াই-উৎরাইয়ের পর মাঠে গড়িয়েছিল ক্লাব কাপ হকি। মোহামেডান-আবাহনী মৌসুমের প্রথম ট্রফি ঘরে তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি। দেশের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী দুই সংগঠনের একটি, মোহামেডান রণে ভঙ্গ দেয়। দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমির এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। সেটা হয়নি বলে মোহামেডান সেমিফাইনালে ম্যাচে মাঠে আসেনি। ফলে মেরিনার্স ফাইনালে উঠে। অন্যদিকে, আবাহনী সেমিফাইনাল জয় করে ফাইনালে এসে হেরে গেলো মেরিনার্সের কাছে।
শনিবার (১৬ অক্টোবর) মাওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মেরিনার্স ৩-০ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সবুজ ২ এবং ভারতীয় খেলোয়াড় অভিষেক গোল করেন।

ফাইনাল খেলাটা খুব স্বচ্ছন্দে শেষ হয়েছে, এ কথা বলা যাবে না। আবাহনী গোল হজম করে পিছিয়ে ছিল। আবাহনীর ভারতীয় খেলোয়াড় বেলিম মাগা বাহারানের সমতা সূচক গোল বাতিল করে আম্পায়ার। গোল হয়েছিল কিনা সেটা যাচাই করতে গিয়ে মিনিট বিশেক সময় নষ্ট করে।
ফাইনাল ম্যাচে দুই দলেই ভারতীয় খেলোয়াড়রা খেলেছেন চার জন করে আটজন। মেরিনার্সের খেলোয়াড়রা ফাইনালটা দারুণভাবে তুলে গেছেন। কিন্তু আবাহনীর ভারতীয় খেলোয়াড়রা সেটি করতে পারেননি। আবাহনীর কোচ মাহবুব হারুন খুবই বিরক্ত তাদের ওপর।

ফাইনাল শেষে হারুন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের দল মোটেও ভালো খেলতে পারেনি। মেরিনার্স জেতার খেলাটাই খেলেছে। ওদের চার বিদেশি ভালো খেলেছে। আমাদের বিদেশি খেলোয়াড়রা মোটেও ভালো না, চলে না। তবে দুঃখজনক হচ্ছে, ভিডিও আম্পায়ারের ডিসিশন হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতো। আম্পায়ার লাকি গোলের সিদ্ধান্ত দিতে ভয় পাচ্ছিল। ওই গোলটা দেয়া হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতো। আমরা হেরে গিয়েছি, মেরিনার্স ভালো খেলেছে।’
উৎফুল্ল মেরিনার্সের কোচ মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের গেম প্ল্যান ছিল, প্রথম দুই কোয়ার্টারে গোল খাবো না। আবাহনীর ফিটনেস সমস্যা ছিল। আমাদের ফুল ফিটনেস ছিল। আমরা জানি ৬০ মিনিট একই টেম্পুতে খেলতে পারবো। কারণ, আমাদের বিদেশি কালেকশন ভালো। ওরাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’ আবাহনীর গোল প্রসঙ্গে মামুনুর রশিদ বলেন, ওটা গোল ছিল না। তবে ২০ মিনিট সময় নেয়া উচিত হয়নি। আমার মনে হয় ওরা ভয় পেয়েছিল সিদ্ধান্ত দিতে।’
ইত্তেফাক/টিএ
