চিকিৎসক ও জনবল সংকটে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরেও চালু হয়নি অপারেশন থিয়েটার। এতে নষ্ট হচ্ছে অপারেশন থিয়েটারের প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার সকল যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অতিরিক্ত রোগীর চাপ আর দালালের দৌরাত্ম্য তো আছেই। এই অবস্থায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চেম্বার খুলে বসেছে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে নির্মিত ৩১শয্যা বিশিষ্ট শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করে সরকার। এরপর ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালের একটি নতুন ভবন তৈরি করে ১৯ শয্যা একটি নতুন তিনতলা আধুনিক ভবন নির্মাণ করে হাসপাতালটি ৫০শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে হাসপাতাল নির্মাণের ৪৯ বছরেও ৫০শয্যার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। এতে গরীব ও জরুরী অপারেশনের রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অপারেশন থিয়েটারের জন্য চিকিৎসক জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) না থাকায় নষ্ট হচ্ছে অপারেশন থিয়েটারের প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার সকল যন্ত্রপাতি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার'শ জন রোগী এখানে সেবা নিতে আসেন। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে এখানে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তাদের। অনেক সময় লাইনে দাড়িয়ে মিলছেনা চিকিৎসা সেবা। খোলা জায়গায় ফেলা হয় হাসপাতালে বর্জ্য। ২০১৭ সালে হাসপাতালকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এখানেই চলছে চিকিৎসাসেবা। অপারেশন থিয়েটারের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসক না থাকায় ক্রয়কৃত যন্ত্রপাতির বেশির ভাগ নষ্ট হওয়ার পথে। হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসকের জায়গায় আছেন মাত্র দুইজন। সংকট রয়েছে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীও এক্সরে ও অপারেশনের জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি থাকলেও আবাসিক পদে চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে দালালদের সহযোগিতায় চলছে চিকিৎসা সেবার রমরমা ব্যবসা। হাসপাতালের পাশেই এলাকার মধ্যে গড়ে উঠেছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এই হাসপাতালে অপারেশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত ফি দিয়ে অপারেশন করতে হচ্ছে অনেক রোগীর। বিশেষ করে জরুরী অপারেশনের রোগীদের দুর্ভোগ বেশি পোহাতে হচ্ছে।

ফুলবানু নামের এক রোগী বুকে ব্যথা নিয়ে হাসাপাতলে ভর্তি রয়েছেন তিনি জানান, গত দুই দিনে ডাক্তার এসেছেন মাত্র একবার। একটা ট্যাবলেটও হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়নি।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রত্না বেগম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, আমার মেয়েকে সন্তান প্রসব করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। নরমালে সন্তান প্রসব না হওয়ায় সিজারিয়ানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই হাসপাতালে সিজারিয়ানের ব্যবস্থা না থাকায় কষ্ট করে পাশের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করানো হয়েছে।
হাসপাতালের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.হাসান ইবনে আমিন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কিছুটা পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে অবস্থিত। যে কারণে আমাদের সেবা গুলো যেটা আমরা শুরু করতে চাচ্ছি। সরকার আমাদের যে লজিস্টিক দিয়েছে কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়াতে জনবলের অভাবে আমরা সেবাগুলো পুরোপুরি চালু করতে পারছিনা। আমাদের অনেকদিন ধরে অনেক যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দী থাকছে। আবাসিক পদে চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। অপারেশনের সাথে সম্পৃক্ত চিকিৎসকদের শূন্য পদের তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর একাধিক বার প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও অপারেশনের জন্য কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না।
ইত্তেফাক/ইআ
