সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন ৩ শতাধিক পর্যটক

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৫:০৭

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে গতকাল রবিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে সার্ভিস বোট চলাচল বন্ধ রয়েছে । ফলে কাঠের বোটে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে যাওয়া প্রায় তিনশতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

সেন্টমার্টিনের সি প্রবাল রিসোর্টে ওঠা পর্যটক সিলেটের হবিগঞ্জ এলাকার মো. আল-আমীন তালুকদার বলেন, গত ১৫ অক্টোবর পরিবার নিয়ে সেন্টমার্টিন বেড়াতে এসেছি। সোমবার রাতের ট্রেনে সিলেট ফিরে যাবার টিকেট করা ছিল। কিন্তু রবিবার থেকে দ্বীপের সার্ভিস বোট বন্ধ থাকায় দ্বীপেই আটকে আছি। ঠিক সময়ে ফিরতে না পারায় বাজেটের টাকায় টান পড়ে। তবে, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও অন্যরা থাকা খাওয়ায় কোন সমস্যা হবে না বলে অভয় দিয়েছেন। ট্রেনের টিকেট লস ছাড়া তেমন কোন সমস্যা নেই।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেন,  প্রতিবছর বর্ষা ও এ মৌসুমের সময়গুলোতে নিজস্ব নিরাপত্তায় সেন্টমার্টিন আসেন অনেক পর্যটক। এবারও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।  পক্ষকাল আগে থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিয়মিত সার্ভিস বোটে (কাঠের ট্রলার) অনেক পর্যটক সেন্টমার্টিন বেড়াতে আসছেন। এখন সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রায় ৩ শ' থেকে ৩৩০ জন পর্যটক রয়েছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত রবিবার থেকে সার্ভিস বোট চলাচল বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে, শিডিউল থাকলেও অনেকে ফিরে যেতে পারেননি।

সেন্টমার্টিনের সি প্রবাল রিসোর্টের মালিক আব্দুল মালেক বলেন, জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও পর্যটকরা নিজস্ব নিরাপত্তায় স্পিডবোট ও ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন এসেছেন। অনেকের রবিবার, আবার কারো সোমবার ফেরত যাবার কথা ছিল। কিন্তু আবহাওয়া বৈরী হওয়ায় সেন্টমার্টিন থেকে কোনো ট্রলার বা স্পিডবোট ছেড়ে যেতে দেয়নি কোস্টগার্ড। রিসোর্টেও অবস্থান করা পর্যটকরা নিরাপদে রয়েছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের সেন্টমার্টিন স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, হোটেল ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বরাতে জানতে পেরেছি ২৫০ থেকে ৩৩০ জনের মতো পর্যটক দ্বীপে অবস্থান করছেন। কারো রবিবার, আবার কারো সোমবার এবং কারো মঙ্গলবার ফিরে যাবার কথা ছিল। বৈরী আবহাওয়া কেটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের টেকনাফে পাঠানো হবে।

No description available.

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, মৌসুম না হলেও নিজস্ব নিরাপত্তায় কয়েকশ পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন বলে খবর পেয়েছি। বৈরী আবহাওয়ায় আটকা পড়ার পরই এটি প্রচার পেয়েছে। আমরা পর্যটকদের খোঁজ-খবর নিয়েছি এবং নিরাপদে থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ু চাপের আধিক্যের পার্থক্য থাকায় চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর এবং নদী বন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বায়ু চাপের আধিক্যের পার্থক্য থাকায় সাগর উত্তাল এবং ঝড়ো হাওয়াসহ কক্সবাজারে বৃষ্টি হচ্ছে। 

ইত্তেফাক/ইআ