শেখ রাসেলকে হত্যার পেছনের কারণ কারো জানা নেই: আনিসুল হক

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৭:২২

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানসহ ১৫ আগস্ট নিহত সকলের হয়তো বাংলাদেশ স্বাধীনতার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে খুন করা হয়। কিন্তু শেখ রাসেলের কি অপরাধ ছিলো, কেনো তাকে হত্যা করা হলো এই কারণ কারো জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক। 

সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ রাসেলকে নিয়ে নানা গুণীজনের স্মৃতিচারণকালে আনিসুল হক এই মন্তব্য করেন। 

No description available.

শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন তিনি। 

এসময় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অপরাধ ছিলো তিনি পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে এই কাজে সরাসরি সাহায্য করেছেন। কিন্তু ছোট্ট শেখ রাসেল, তার কি অপরাধ ছিলো এই কারণটি আমাদের কারোরই জানা নেই।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, শেখ রাসেল মাত্র ১০ বছর বয়সে যেমন বন্ধু বতসল ছিলো, তার মধ্যে যেই ন্যায্য দাবি করার যেই সাহস, তার মধ্যে যেই যত্ন এবং দায়িত্বভার ছিলো, সত্য বলার সাহসিকতা ছিলো সেটা আমাদের দেশের শিশুকিশোরদের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে চাই। 

No description available.

তিনি আরও বলেন, যেই বাংলাদেশ ১২ বছর আগে একটা দরিদ্র রাষ্ট্র ছিলো। শেখ হাসিনা তার সততা, সাহসিকতা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে সেই বাংলাদেশকে উন্নত দেশের তালিকায় নিয়ে এসেছে। 

আমাদের সকলকে সাহসিকতার সাথে কাজ করতে হবে। সত্যকে সত্য বলে অন্যায়কে প্রতিহত করতে হবে। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার সংঘাত করে তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। আমাদের সকলকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জাগ্রত হয়ে উদার গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। 

নবনীতা চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, এই করোনাকালে অনেক শিশু-কিশোররা স্কুল থেকে ঝড়ে পড়েছে, বাল্যবিবাহের কারণে কিশোররা ঝড়ে পড়ছে। আমাদের উচিত তাদেরকে ফিরিয়া আনতে হবে। তাদের স্বাক্ষরতা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই এই শেখ রাসেল দিবস উদযাপন সফলতার মুখ দেখবে। 

No description available.

অনুষ্ঠানে এটিএন নিউজের বার্তা সম্পাদক মুন্নী সাহা বলেন, আজকে রাসেলের জন্মদিনে আমার দাবী, মানুষ হিসেবে তৈরি করতে আপনি একটি মেগা প্রজেক্ট হাতে নিন। কারণ, এই মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আপনি একাই বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে আমি মনে করি।

শিশু শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত সাদাত রহমান বলেন, আমরা যদি শিশুদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে পারি, তাদেরকে বড় হওয়ার সুযোগ দেই তাহলেই আমরা ভবিষ্যতের খোকা বা শেখ মুজিব পাবো। 

তিনি বলেন, ৭৫' এ শেখ রাসেলকে হত্যা করার পর আমরা সবাই তখন চুপ ছিলাম। কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকলে চলবে না। শিশুদের হত্যার বিষয়ে দেখবেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতিতেও নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই আমাদের সকলের উচিত শিশুদের মৌলিক অধিকার নিয়ে কথা বলা, কাজ করা। 

তথ্য ও প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহা-পরিচালক রেজাউল মাকসুদ জাহেদী বলেন, আমরা যদি সকলে একত্রে হয়ে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত লক্ষের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলত পারবো। 

অনুষ্ঠানে আলোচনা শেষে শেখ রাসেলের ১০ বছরের জীবনের বেশ কিছু দুর্লভ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দিয়ে নির্মিত ভিজুয়াল থিম সং পরিবেশনা করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আলোচকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। 

ইত্তেফাক/আরকে