মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলেদের হামলায় গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পাঁচ জন নৌ-পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আহতদেরকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কবীর হোসেন নামের পুলিশের এক কনস্টেবলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) এঘটনা ঘটে।
নৌ-পুলিশ জানায়, গজারিয়ার মুন্সীগঞ্জ সদরের চরঝাপটা এলাকায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযানের সময় জেলেরা পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করে পালিয়ে যাচ্ছিল। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। নদীর তীরে পৌঁছুলে জেলেরা দেড় থেকে দুইশ লোক নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে ৫ জন পুলিশ গুরুতর আহত হয়। আহতদের প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। প্রথমে কনস্টেবল কবীরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে বাকি ৪ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ মোট ৩ এসআই ও ২ কনস্টেবল রয়েছেন। তারা হচ্ছেন গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: আব্দুস সালাম, এস আই শাহ আলম, এস আই ফয়সাল কবীর, কনস্টেবল কবীর হোসেন ও কনস্টেবল নজরুল ইসলাম।
ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: আব্দুস সালাম আহত অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে বলেন, 'নদীতে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করে জেলেরা পালিয়ে যাচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমরা জেলেদের ধাওয়া করে হামলার স্বীকার হই। দেড় থেকে দু’শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়।' এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন, 'হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।'
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম নিরাপদ করতে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদ-নদী এবং সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসএ
