তার দিকে তাকালেই বুঝতে পারি কোন শটটা দরকার: সিয়াম

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪৯

চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। নাটকে পরিচিতি থাকলেও ২০১৭ সালে ‘পোড়ামন-২’-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন এই অভিনয়শিল্পী। রায়হান রাফি পরিচালিত ওই ছবি দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিতও হন। এরপর উপহার দেন বেশ কয়েকটি দর্শকপ্রিয় সিনেমা। বর্তমানে তার অর্ধ ডজন ছবি মুক্তির অপেক্ষায়। তিন বছর পর আবারও জাজ মাল্টিমিডিয়ার নতুন সিনেমা করছেন সিয়াম। বুধবার সিনেমার কাজসহ ভিন্ন বিষয়ে ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন এই নায়ক।

ইত্তেফাক: কেমন আছেন? এখন কী কী কাজ করছেন?

সিয়াম আহমেদ: ভালো। এখন দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘অন্তর্জাল’ সিনেমার কাজ করছি। শেষ লটের কিছু কাজ করে বিরতি নিয়েছি। কারণ, সিনেমার লোকেশন শিফট, আমার লুক পরিবর্তন, দেশের বাইরে শুটিং; এ সবকিছু তো সময়ের ব্যাপার। এছাড়া ‘মৃধা বনাম মৃধা’ সিনেমার ডাবিং শেষ করলাম। ‘শান’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’, ‘পাপ-পুণ্য’ সিনেমার কাজ কমবেশি রেডি আছে। সব মিলিয়ে কিছুটা ব্যস্ততা যাচ্ছে।


সিয়াম আহমেদ । ছবি: সংগৃহীত

ইত্তেফাক: দুই দিন আগে ‘রাস্তা’ শিরোনামে নতুন একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। নির্মাতা রায়হান রাফি পরিচালিত এই সিনেমায় পারিশ্রমিক হিসেবে নিচ্ছেন মাত্র ১০০১ টাকা। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই।

সিয়াম আহমেদ: ‘প্রথমে ‘রাস্তা’ সিনেমাটির জন্য আমি কোনো পারিশ্রমিক নিতে চাইনি। পারিশ্রমিক না নিলে চুক্তি বাস্তবায়িত হয় না। তাই নামমাত্র পারিশ্রমিকে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। কারণ, আমার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে ‘পোড়ামন-২’, ‘দহন’ সিনেমার জন্য মানুষের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। এখনো আমাকে কেউ কেউ ‘সুজন’ কেউ কেউ ‘তুলা’ বলে ডাকে। সেই ভালোবাসাটা আসলে টাকা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। আমাদের যে টিম ছিল, সেই টিমের ওপর মানুষের যে বিশ্বাস ছিল, তা নষ্ট করতে চাই না। এজন্য আমি এতদিন অপেক্ষায় ছিলাম। ফাইনালি সেটা পেয়েছি।


সিয়াম আহমেদ ও রায়হান রাফি। ছবি: সংগৃহীত

ইত্তেফাক: রায়হান রাফির সঙ্গে কয়েকটি সফল সিনেমা করেছেন। আবারও তার সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন। এই পরিচালকের সঙ্গে আপনার সফলতার গল্পটা কী?

সিয়াম আহমেদ: রায়হান রাফি তো এখন শুধু পরিচালক নন। আমার ভাই হয়ে গেছেন। আমরা এখন পারিবারিকভাবে সম্পৃক্ত।  কাজ হোক আর না হোক; রাফি যেকোনো কাজে যাওয়ার আগে আমাকে বলে, যেকারও সঙ্গে কাজ করার আগেও আমার সঙ্গে কথা হয়। আমরা দুই জন দুজনের কাছে পরামর্শ নেই। আমাদের দুই জনের একসঙ্গে কাজ হতে হবে, বিষয়টা এমন না। দিনশেষে সম্পর্কগুলো আসলে টিকে থাকে। আর সিনেমার শুটিংয়ের সময় দেখা যায় পরিচালক চেয়ার থেকে উঠে এসে ডিরেকশন দেন কিন্তু রায়হান রাফির সঙ্গে আমার সেটা খুব কম হয়। শটের সময় আমরা দুই জন দুই জনের দিকে তাকালে বুঝতে পারি, আসলে কোন শটটা দরকার। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করি। এই বোঝাপড়াটা পরিচালক-আর্টিস্টদের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আমাদের দুই জনের ওপর হয়তো দর্শকদের আলাদা একটা চাহিদা তৈরি হয়েছে। সেদিক থেকে আমাদের বাড়তি একটা চাপ থাকে। এই চাপের জায়গা থেকে আমরা ভালো কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি।


সিয়াম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ইত্তেফাক: ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘মরীচিকা’ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ওটিটির কন্টেন্ট নিয়ে আগামীর পরিকল্পনা কী?

সিয়াম আহমেদ: পরিকল্পনা যে নেই, ব্যাপারটা এমন না। আমিও চাই ভালো প্রজেক্টে কাজ করতে। এখানে অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কিত। এমন না যে, আমি আজ চাইলাম, কাল সেই কাজটা করে ফেললাম। সময় নিয়ে কাজটা করছি বলেই একেকটা কাজ রিলিজ দিতে সময় লাগছে। ওটিটিতে কাজের জন্য অনেক স্ক্রিপ্ট পাচ্ছি, সেগুলো পড়ে দেখছি। চেষ্টা করছি ভালো প্রজেক্ট বেছে নেওয়ার। এখন কিছু কাজ করছি। ইনশাল্লাহ-সামনেও কিছু না কিছু হয়ে যাবে। কারণ, থিয়েটার রিলিজের জন্য আমার যে ছবিগুলো সাইন করা এখানেই ৭-৮টি ছবি জমে গেছে। এই কাজগুলোই শেষ করতে পাচ্ছিলাম না। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে অন্য কাজে মন দিতে হয়। কারণ, আমি একসঙ্গে ২-৩টি কাজ করতে পারি না। এটা আমার অপারগতা। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় সময় নিয়ে কাজ করাই ভালো।


সিয়াম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ইত্তেফাক: চলচ্চিত্রে প্রযোজক-অভিনেতারা একে অন্যের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে অভিনয় শিল্পীদের প্রতি দর্শকদের বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

সিয়াম আহমেদ: আমার মনে হয়, পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পী একে অন্যের পরিপূরক। তাদের মধ্যে থেকে যদি আপনি একজনকে ফেলে দেন বা একজনকে ছোট করেন, তাহলে কিন্তু ফিল্মে  ব্যালেন্স থাকবে না। একজন পরিচালক-প্রযোজককে যেমন আমাদের মতো অভিনেতাদের দরকার, তেমনি আমাদের ভালো কাজ করার জন্য একজন প্রযোজককেও দরকার। যারা বুঝবেন; আমরা কী চাই। আমরা কতটুকু দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রযোজককে ছোট করলে আর্টিস্টরা বড় হবেন না, তেমনি আর্টিস্টদের ছোট করলে প্রযোজক-পরিচালকরাও বড় হবে না। নিজেদের কথা বলার সময় সবাই যদি আরেকটু সংবেদনশীল হই, এই জায়গাটাকে নিজের পরিবার মনে করি তাহলেই মনে হয়, এই সমস্যাগুলো আর হবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমরা যার বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দিচ্ছি, তিনি তো আমাদের পরিবারেরই মানুষ। দিনের শেষে তো পরিবারই ছোট হচ্ছে। সবাই যদি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নিজের পরিবার ভাবে, তাহলে ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়। কেউ যদি কোনোকিছু বলেই ফেলে, সেটা পাবলিক প্লেসে না এনে নিজেদের মধ্যে সমাধান করলেই ভালো ফল দেবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ/এনএইচ