কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় বৌলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন আওলাদ হোসেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে তার এই মনোনয়ন নিয়ে। সবাই বলছেন, তার দাদা ছিলেন একজন রাজাকার। বিভিন্ন কাগজপত্র ও তথ্যাদিতে দেখা যাচ্ছে, আওলাদ হোসেনের দাদা আমির আলী ছিলেন একাত্তরের তালিকাভুক্ত দালাল কমিটির সদস্য।
এমন একজন রাজাকার পরিবারের সদস্যকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গত ২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড বরাবর লিখিত আবেদনে আওলাদ হোসেনকে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। এছাড়া রাজাকারের নাতি আওলাদ হোসেনের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের পরিচ্ছন্ন যেকোনো রাজনীতিবিদকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বুরহান বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রেজ্যুলেশনে যখন শহীদ ব্যবহার করিনি তখন জেলা আওয়ামী লীগের ১ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও আওলাদ হোসেন আমাকে জোর করে আগের রেজ্যুলেশন কেটে নতুন রেজ্যুলেশনে তার বাবার নাম শহীদ নিজের হাতে লেখেন।’
এছাড়া একই প্রসঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘রাজাকারের নাতি যদি ভুয়া শহীদ পরিচয় দিয়ে নৌকা মার্কা পায় তাহলে আমরা আওয়ামী লীগ করে কী লাভ?
বৌলাই ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা মো. রাজ্জাক বলেন, ‘আওলাদ হোসেনের দাদা হাজী আমির আলী শান্তি কমিটি চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ, দেশ আনছি আমরা। মনোনয়ন রাজাকার পরিবারকে দেবেন না। চিন্তা-ভাবনা করে দলীয় মনোনয়ন দেবেন।’
রাজাকার ও শহীদ ইস্যুতে জানতে চাইলে আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তিনি অত্র ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন।’ এলাকাবাসী সবাই জানেন, আমার বাবা শহীদ হয়েছেন। ১৯৭১ সালের ৩১ জুলাই পাকিস্তানি বাহিনী তাকে মেরে ফেলে। এর আগে তাকে তিন দিন তারা নির্যাতন করে।’ সেসময় আমার দাদা ছিলেন ৭৫ বছর বয়সের। তখন কীভাবে তিনি রাজাকার হতে পারেন?’
আওলাদ হোসেন অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘মনোনয়ন না পেয়ে প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
এদিকে, এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও লেখক ড. জাহাঙ্গীর আলম জাহান বলেন, ‘আওলাদ হোসেনের বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তার দাদার নাম রাজাকারের তালিকায় থাকলে থাকতেও পারে। কারণ, সেসময় তো অনেকে মুসলিম লীগ করতো এবং অনেকেই শান্তি কমিটিতেও ছিলেন।’
ইত্তেফাক/কেএইচ

