সিনেমার জন্য টিকটক ছেড়েছি: জিসান

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ২২:০৬

অকালপ্রয়াত নায়ক সালমান শাহ ছাড়াও ঢালিউডে মৌসুমী, শাকিল খান, পপিসহ কয়েকজন চলচ্চিত্র তারকার আবিষ্কারক সোহানুর রহমান সোহান। এমনকি হালের ঢাকাই ছবির কান্ডারি শাকিব খানের প্রথম চলচ্চিত্র ছিল সোহানের পরিচালনায়। এবার তিনি নিয়ে এসেছেন আরও একজন নায়ককে। তার নাম সোহানুর রহমান সিয়াম (জিসান খান)। সোহানের নতুন ছবি ‘স্বপ্নের রাজকুমার’। এই ছবিতে  নায়ক হিসেবে থাকবেন তিনি। চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন। অভিনয়ে যুক্ত হওয়া ও আগামী ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢালিউডের এই নতুন মুখ।

ইত্তেফাক: ‘স্বপ্নের রাজকুমার’ সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে আপনার ক্যারিয়ার শুরু হতে যাচ্ছে। অভিনয়ে আসার ইচ্ছে আগে থেকেই ছিল না কি?

জিসান খান:  না না। ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে ছিল পুলিশ অফিসার হওয়া। আমার ফ্যামিলির ১৩ জন ডিফেন্সে জব করেন। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে পুলিশ অফিসার হওয়ার ইচ্ছে ছিল।

ইত্তেফাক: অভিনয়ে কোনো আসলেন?

জিসান খান: লকডাউনে মধ্যে আমরা সবাই ঘরবন্দি ছিলাম। আগে কখনো টিকটক করিনি। কিন্তু লকডাউনের সেই সময়টা আমি টিককট শুরু করি। প্রথম দিকে তেমন সাড়া পাইনি। পরে একটা-দুটা করে আপলোড শুরু করলাম। কেউ কেউ বলা শুরু করলেন, সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে নাকি আমার চেহারার কিছুটা মিল আছে।  বিষয়টা নিয়ে আমাকে সবাই ভাইরাল করে। সেই সময়েই পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান ভাইও নতুন হিরো খুঁজছিলেন। একটা আপু আমাকে বলেন, সোহান ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। পরে কালবিলম্ব না করে আমি রাজি হয়ে যাই। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো জন্মের পর এই পরিচালকের নাম অনুসারেই আমার নাম রাখা হয়। পরে আব্বু ডাক নাম সিয়াম রাখেন।

ইত্তেফাক: ঢালিউডের সফল নায়িকা শাবনূর। তিনিই আপনাকে ব্যাপক পরিচিতি দেন। শাবনূর সরাসরি বলেছিলেন, ‘ওর নাম সিয়াম। হয়তো ভবিষ্যতে ওকে সিনেমায় দেখা যেতে পারে।’ শাবনূরের কথাই সত্য হলো। তো শাবনূরের সঙ্গে আপনার শুরুর বিষয়টি জানতে চাই।

জিসান খান: শাবনূর ও আমার বাসা একই এলাকাতে। তার বাসা যশোর আর আমার নড়াইলে। তার সঙ্গে অনেক আগে থেকেই আমার কথা হয়। কিছু দিন আগে আমার টিকটকের সঙ্গে তার পুরনো ভিডিও জোরা লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন। প্রথমে শাবনূর আপুই আমাকে প্রোমোট করেছিলেন।

ইত্তেফাক: সালমান শাহ, মৌসুমী, শাকিল খান, পপি, শাকিব খানসহ আরও অনেকে সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে চলচ্চিত্রে এসে সফলতা পেয়েছেন। আপনার শুরুটা হচ্ছে একজন স্বনামধন্য পরিচালকের মাধ্যমে। এমনটা সবাই পায় না। সেই জায়গা থেকে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

জিসান খান: সোহানুর রহমান সোহান ভাইয়ের প্রতি আমাদের সবারই একটা বিশ্বাস থাকে যে, তিনি যা করবেন, ভালো কিছুই করবেন। তিনি এখন পর্যন্ত যাদের বের করে নিয়ে এসেছেন, তাদের কেউ ঝরে পরেনি। সোহান ভাইয়ের থেকে আমি যখন গল্পটা শুনেছি তখনই আমার ভালো লেগেছে। আমার বিশ্বাস, এই গল্পটা যদি বের হয়, দর্শক সেই আগের মতো সিনেমার ফিল পাবে। এছাড়া যারা সোহান ভাইয়ের হাত ধরে এসেছেন তাদের সেই স্থানে যাওয়ার জন্য আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। আমার সম্পূর্ণটা দিয়ে আমি সেটা করে যাবো।

ইত্তেফাক: আমাদের দেশে যারা টিকটক করেন তাদের প্রতি দর্শকদের একটা বিরূপ ধারণা আছে। আপনি কি টিকটক চালিয়ে যাবেন নাকি সেটা ছেড়ে দেবেন।

জিসান খান: সিনোমায় যুক্ত হওয়ার পর আমি টিকটকে ভিডিও বানানো বন্ধ করে দিয়েছি। মূলকথা হলো, টিকটক প্ল্যাটফর্মকে আমি কখনো পেশা হিসেবে নেইনি। লকডাউনের মধ্যে যখন ঘরবন্দি ছিলাম, তখন শখের বসে টিকটক করেছি। তখন সময় কাটানোর জন্য টিকটক করেছি। এছাড়া আর কিছুই না।

ইত্তেফাক: আপনার পরিবার ও পড়ালেখার বিষয়ে জানতে চাই।

জিসান খান: গ্রামের বাড়ি নাড়াইল কালিয়া থানায়। বাবা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও গৃহিণী। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) ইউনিভার্সিতে ইংলিশ বিষয়ে ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছি।

ইত্তেফাক: আপনি অভিনয়ে আসায় আপনার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন?

জিসান খান: আমার পরিবার কেউ এই বিষয়টির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এর আগে আমার কাছে মিউজিক ভিডিও, শর্টফিল্ম ও নাটকে অফার এসেছিল। কিন্তু সেগুলো করা হয়নি। কারণ পরিবার থেকেও তেমন পজিটিভ ছিল না। কিন্তু সোহানুর রহমান সোহান ভাইয়ের নামটা শুনেই তার রাজি হয়ে গেছেন। এখন আমার পালা। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করার চেষ্টা করবো।

ইত্তেফাক/বিএএফ/এনই