শিক্ষক সমাজ জাতির মেরুদণ্ড। তবে ‘ভঙ্গুর’ মেরুদণ্ড নিয়ে দিন অতিবাহিত করলে জাতির যে ‘ঋজু’ মেরুদণ্ড নির্মাণ হয় না, নিজের জীবনদান করে আমাদের জানিয়ে গিয়েছিলেন শহীদ ড. শামসুজ্জোহা। তার এই আত্মোৎসর্গের মাধ্যমেই পাকিস্তানের বন্দিশালা থেকে মুক্ত হয় বাংলাদেশ।
সোমবার ড. শামসুজ্জোহার ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শ্যামল চক্রবর্তী।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের উদ্যোগে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে ‘চরিতার্থ এক বিজ্ঞান জীবন: নির্মিতি ও সমকালের ভাবনা’ শীর্ষক এ স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. বেলায়েত হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। এছাড়া অন্যদের মাঝে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম শেখ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার, প্রক্টর প্রফেসর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনসহ অন্য ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ,আবাসিক হল, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ ড. জোহার মাজার ও জোহা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।
আরো পড়ুন: ৮০ জন যাত্রী নিয়ে উল্টে গেলো পিকনিকের বাস, নিহত ১
এ দিকে শহীদ ড. শামসুজ্জোহাকে উৎসর্গ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তাহব্যাপী একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরণ ফাউন্ডেশন।
উল্লেখ্য, ড. সৈয়দ মুহম্মদ শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন। তিনিই এদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শিক্ষক দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।
ইত্তেফাক/অনি
