টানা পাঁচ দিন দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার পুঁজিবাজারে ধসে নেমে এসেছে। গতকাল লেনদেন হওয়া ৩৭৪ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম কমেছে ৩২৪টির আর বেড়েছে মাত্র ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। তাতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৮৯ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক কমেছে ৩১৫ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর লেনদেন কমে প্রায় তিন মাসে সর্বনিম্ন স্থানে নেমে এসছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত এক সপ্তাহে বস্ত্র, বিমা-আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের দাম কমেছিল। এই কয়েক দিন কেবল ব্যক্তিক্রম ছিল ব্যাংকের শেয়ার। তবে গতকাল সোমবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তগুলোর ব্যাংকের শেয়ারের দামও কমেছে। প্রায় সব কোম্পানির দাম কমায় পুঁজিবাজার এখন ধসে রূপ নিয়েছে বলে মনে করেন বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, নতুন করে এই ধসে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় আরো ঢুকেছে, বাজারে আরো পতন হতে পারে। তাই তারা দ্রুত শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে টাকা ক্যাশ করে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজার এখন একটি পর্যায়ে এসেছে। বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার টানা বেড়েছে, এখন এসব কোম্পানিতে মূল্য সংশোধন হচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা পুঁজিবাজারে ঘটেনি বলে মনে করেন তিনি।
প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২১ দশমিক ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে ও ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৮৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। অর্থাত্, আগের দিনের চেয়ে লেনদেন প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কম, যা গত ২ মাস ২৩ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন। এর আগে চলতি বছরের ২৫ জুলাই ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। এর পরদিন ২৬ জুলাই লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩১৫ পয়েন্ট কমে ২০ হাজার ৭০৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন করা ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ২৫৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। এই বাজারে লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার ৩৭৮ টাকা। এর আগে লেনদেন হয়েছিল ৬৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৮ হাজার ২১১ টাকার শেয়ার।
