একটু দূর থেকে দেখলে অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। বাতাসে দোল খাচ্ছে কাঁচা আমন ধান। এই ধান পাকতে ও ঘরে তুলতে কৃষকের এখনো মাসখানেক সময় লাগবে। কিন্তু এই মাঠের মধ্যে এক খণ্ড জমির ধান সম্পূর্ণ পেকে হলুদ হয়ে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যেই কৃষক এই ধান কেটে ঘরে তুলবেন। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব?
সম্প্রতি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার পীরগঞ্জ গ্রামে গেলে এমন দৃশ্যই দেখা যায়। কৃষক মো. আবু সাইয়ীদ ইত্তেফাককে বলেন, এটা আগাম আমন জাত বীনা-১১ ধান। এই ধান চাষ করতে চারা তৈরি থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১১০ দিন সময় লাগে। তিনি বলেন, এই ধানের চারা করতে ২০ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। চারা তৈরির সময় বাদ দিলে বীনা-১১ চাষে সময় লাগে ৯০ দিন, যা অন্য জাতের আমনের চেয়ে এক মাস কম। তিনি জমির পাকা ধান দেখিয়ে বলেন, ‘দু-এক দিনের মধ্যেই এই ধান কেটে ঘরে তুলব।’ একই কথা জানালেন আরেক কৃষক আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, উচ্চফলনশীল জাতের হওয়ায় বীনা-১১ অন্য জাতের আমনের চেয়ে বিঘায় চার-পাঁচ মণ বেশি হয়। ধানের দানা লম্বা ও মাঝারি হয়। দামও ভালো পাওয়া যায়। তবে বীনা-১১-এর বিশেষ গুণ হলো, বন্যা এই ধানের তেমন ক্ষতি করতে পারে না। জলমগ্ন অবস্থায়ও এই ধানগাছ টিকে থাকে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বীনা) মহাপরিচালক ও জাতটির উদ্ভাবক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আগের আমন জাতগুলোর জীবনকাল বেশি হওয়ায় উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা বছরে দুটির বেশি ফসল চাষ করতে পারতেন না। কিন্তু স্বল্প জীবনকালের বীনা-১১ চাষ করলে কৃষকেরা সহজেই বছরে একই জমিতে তিনটি ফসল চাষ করতে পারবেন।
