ভারী যান নিয়ন্ত্রণে বসছে প্রতিবন্ধক, র্যাম্পের ব্যাপারে সিডিএ দায়িত্ব নিচ্ছে না

বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ১৯:২১

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের চান্দগাঁও অভিমুখী আরাকান সড়কের ওপর নির্মিত র্যাম্পে ভারি যানবাহন চলাচল প্রতিরোধে প্রতিবন্ধক গেট বসানোর কাজ শুরু করেছে। সিডিএ’র পক্ষ থেকে অভিযোগ, যানজট নিরসনের কথা বলে এই প্রতিবন্ধক গেট চসিক এর আগে তুলে দিয়েছিল।

এদিকে ফ্লাইওভারে উঠানামার জন্য মূল পরিকল্পনা বহির্ভূত র্যাম্প দুটি নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মধ্যে পরস্পর দোষারোপ এখনো চলছে। অন্য দিকে ফাটলের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জননিরাপত্তার স্বার্থে র্যাম্প চালু করবে না বলে সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়। গত সোমবার রাত থেকে ফ্লাইওভারের র্যাম্পের পিলারে ফাটল নিয়ে তোলপাড় শুরু হলেও এ পর্যন্ত ঐ স্থানে সিডিএর কোনো প্রকৌশলীকে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। সিডিএ সূত্র জানায়, মূল পরিকল্পনার বাইরে নির্মিত র্যাম্পের ব্যাপারে সিডিএ প্রকৌশলীরা কোনো ধরনের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। সিডিএর প্রকৌশলীরা এখনো বলছেন, র্যাম্প দুটি বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের অংশ নয়। তত্কালীন সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের অনুরোধে র্যাম্প দুটি স্থাপন করে শুধু হালকা যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। ভারি যানবাহন চলাচল রোধে সিডিএ প্রতিবন্ধক গেট তৈরি করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফ্লাইওভারটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চসিক-কে অর্পণ করে। তারা বলেন, ডিপিপি বহির্ভূত র্যাম্প দুটি নির্মাণে ফ্লাইওভার প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দও ছিল না। তত্কালীন সিডিএ চেয়ারম্যান র্যাম্প দুটির জন্য অর্থের সংস্থান করেন তার স্ব-উদ্যোগে। তারা বলেন, ২০১৭ সালে র্যাম্প দুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চসিক-কে এটি হস্তান্তরের আগে পর্যন্ত প্রতিবন্ধক গেট এবং সতর্কতা সাইনবোর্ড লাগিয়ে সিডিএ র্যাম্প দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ রাখে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাওয়ার পর একপর্যায়ে চসিক যানজট নিরসনের কথা বলে প্রতিবন্ধক গেট এবং সাইনবোর্ড তুলে দিয়ে র্যাম্প দিয়ে হালকা যানবাহনের পাশাপাশি ভারি যানবাহন চলাচলেরও সুযোগ করে দেয়।

গত ২৫ অক্টোবর রাতে কে বা কারা পূর্ব পাশের র্যাম্পের পিলারের উপরের অংশে ফাটল ধরেছে জানালে চান্দগাঁও পুলিশ জননিরাপত্তার স্বার্থে র্যাম্প দুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে সিডিএর নির্দেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স তাদের নকশাকারী প্রতিষ্ঠান ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (ডিপিএম) বিশেষজ্ঞদের তলব করে। গত ২৭ অক্টোবর ডিপিএম বিশেষজ্ঞরা কথিত ফাটল সরেজমিনে পরীক্ষা করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান যে ফ্লাইওভারে কোনো ধরনের ফাটল ধরেনি। সিমেন্টের আস্তর উঠে যাওয়ার কারণে র্যাম্পের পিলারের ক্যান্টিলিভার ও পিলারের সংযোগস্থলকে ফাটল বলা হয়েছে।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্দেশে গত বুধবারই তদন্ত কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) প্রকৌশলীদের নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে বিশেষজ্ঞ চেয়ে গত বৃহস্পতিবার দুই সংস্থা বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মনির হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আমি জেনেছি গত বুধবার রাত থেকেই চসিক বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের র্যাম্পে ভারি যান চলাচল রোধে প্রতিবন্ধক গেট বসানোর কাজ শুরু করেছে। সিডিএর পক্ষ থেকে অভিযোগ, এই প্রতিবন্ধক গেট চসিক এর আগে তুলে দেয়।

ইত্তেফাক/এনএজেডএন