বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

আসছে শীত, ব্যস্ততা বেড়েছে গরম কাপড় ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২১, ১৮:৩৭

কড়া নাড়ছে শীত। সারা দিন রোদের রাজত্ব শেষে সন্ধ্যা নামতেই বদলে যাচ্ছে তাপমাত্রা। ভোরের দিকে চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে কুয়াশা। তবে এখনো জেঁকে বসেনি শীত। শীতকে মোকাবিলা করতে রাজধানীসহ সারাদেশের ফুটপাত ও বড় বড় শপিংমলগুলোতে গরম কাপড়ের পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানিরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে রাজধানীর ওয়াইজঘাট, সদরঘাট, গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, মতিঝিল, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর, দেশের বড় বড় শপিংমলগুলোতে শীতবস্ত্রের মেলা বসেছে। এসব বিপণিবিতানগুলোতে শীতের পোশাক কিনতে জড়ো হচ্ছেন ক্রেতারা। তবে বেচা-কেনা এখনো জমে ওঠেনি।

শীতের পোশাক

প্রতিনিয়তই তরুণ-তরুণীদের ফ্যাশন পরিবর্তন হচ্ছে। তাই তাদের যদি নতুন কোনো রূপে দেখা যায়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। ফ্যাশন হাউসগুলো সব সময়ই দেশি উপকরণ নিয়ে কাজ করে। সালোয়ার-কামিজ পরা মেয়েদের জন্য আছে লং জ্যাকেট, পঞ্চ। ফুলহাতা উজ্জ্বল রঙের লম্বা পাঞ্জাবিও আছে; যা চুড়িদার পায়জামার সঙ্গে পরে তার ওপর একটা শাল জড়িয়ে নিলে ফ্যাশনও হবে, পাবে আরামও। এখন তরুণীরা পছন্দ করছেন মোটা কাপড়ের টপস, লেগিংস আর বাহারি ডিজাইনের কার্ডিগেন। শাড়ির ক্ষেত্রে ফুলস্লিভ ব্লাউজ আর শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে শাল জড়িয়ে হয়ে উঠতে পারেন অনন্য। টি-শার্ট বা শার্ট পরলে ওপরে পরতে পারেন হাতাকাটা সোয়েটার। অথবা একটু ঢিলেঢালা পুলওভার।

ছেলেদের জন্য শীত উপলক্ষে জ্যাকেটের পাশাপাশি ফুলহাতা টি-শার্ট, ফুলহাতা শার্ট, খদ্দর কাপড়ের আরামদায়ক ট্রাউজারও আছে। শীতে আঁটসাঁটো নয়, বরং ঢিলেঢালা পোশাকই পরতে আগ্রহী কিশোরী আর তরুণীরা। পশমী বা উলের ক্রুসকাটার কাজ করা সোয়েটার পরছেন অনেকেই। সোজা কাটের পোশাকের সঙ্গে বেছে নিতে পারেন হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ব্লেজার। জ্যাকেট আর ব্লেজারের সংমিশ্রণে তৈরি নতুন ধরনের শীতের পোশাক উঠে আসছে তরুণদের পছন্দের তালিকায়। অফিসের প্রয়োজনে ব্লেজার পরতে পারেন।

ফুটপাতে শীতের পোশাক

ডিজাইনের ওপর পোশাকের দামেরও ভিন্নতা আছে। বিভিন্ন ধরনের চামড়ার নকশা করা জ্যাকেট কেনা যাবে ১ হাজার ৮০০ থেকে  ৮ হাজার টাকায়। ক্যাজুয়াল ব্লেজারের দাম পড়বে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। হুডি জ্যাকেট বা সোয়েটার দোকানভেদে দাম পড়বে ৯০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। আর উলের সোয়েটার ৭০০ থেকে  ২ হাজার ৮০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তাঁতের শালগুলোর দাম পড়বে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর বিভিন্ন ধরনের কাজ করা শালের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। অনেকের খদ্দরের শাল পছন্দ বলে বেশি শীতের জন্য খদ্দরের ভারী শালও আছে। হালকা, মাঝারি আর ভারী এ তিন ধরনের শালই এসব বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা কলেজের উল্টো দিকে ফুটপাতে কাপড়ের পসরা নিয়ে বসেছিলে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা পিন্টু। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় অনেকে শপিং করতে আসেন। তারা আমাদের কাছ থেকেও কাপড় কিনে নিয়ে যান। ছোট-বড়, সব বয়সী মেয়েদের সোয়েটার, মোটা কাপড়ের সর্টস, লং কুর্তি আছে। দাম ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। গত দুই-তিন দিনে বিক্রি একটু বেড়েছে।’

শীতের পোশাক দেখছেন নারীরা

রাজধনীর নীলক্ষেতের নূরজাহান মার্কেটে কথা হয় শিক্ষার্থী বুলবুল ফাহিম সঙ্গে। তিনি শীতের কাপড় এখনই কেনার কারণ জানিয়ে বলেন, ‘ঢাকায় পুরোপুরি শীত এলে শীতের পোশাকের দাম বেড়ে যাবে। তাই এখনই কিনে নিচ্ছি।’

ফ্যাশন সচেতনদের এই শীত কিন্তু ভীষণ প্রিয়। কেননা শীত নিবারণের হাজারো পোশাকে বাজার সরগরম। শীতের ফ্যাশন কেমন হতে পারে, তা ডিজাইনারদের মতে অনেকটা এমন যে, শীতের পোশাকের জম্পেশ কালেকশন নিয়ে এসেছে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও। জ্যাকেট, ব্লেজার, সোয়েটার, হুডিতে যেমন রয়েছে ফ্যাশন বৈচিত্র্য তেমনি রয়েছে বাহারি রঙ।

পোশাকের বাজারে শীতের কাপড়

পুরানা পল্টনের পলওয়েল সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সাজ্জাদ বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন মার্কেট প্রায় ক্রেতাশূন্য ছিল। গত দুই-তিন দিন ধরে কম্বল, জ্যাকেট, সোয়েটার ও শাল কিনতে ক্রেতারা আসছেন। বেচা-কেনাও ভালো হচ্ছে।’

গাজীপুরের খুচরা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন রাজধানীর বঙ্গবাজারে কম্বল কিনতে এসেছেন এসময় তিনি বলেন, ‘গাজীপুরের বেশিরভাগ এলাকা গাছপালাবেষ্টিত হওয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি শীত অনুভূত হয়। গত কয়েকদিন ধরে কম্বল ও গরম কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে।’

এদিকে, আসছে শীতের আগমনের জন্য মহল্লার বিভিন্ন লেপ-তোষকের দোকানে বাড়ছে ব্যস্ততা।

 

ইত্তেফাক/এনই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

তেঁতুলিয়ায় আবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা, হালকা বৃষ্টির আভাস

রাত থেকে বাড়বে কুয়াশা

বিশেষ সংবাদ

১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়

মঙ্গলবার থেকে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৬ ডিগ্রিতে

২১ ডিসেম্বর থেকে শৈত্যপ্রবাহ 

সারাদেশে কমতে পারে তাপমাত্রা