মিরসরাইয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে শীতল পাটি

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১১:১৭

মিরসরাইয়ে নিম্নআয়ের পরিবারের নারীদের অন্যতম পেশা শীতল পাটি বোনা। এর কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা হয় পাটিপাতা বা পাটিবেত। আর ভালো মানের একটি শীতল পাটি বিক্রি হয় ৯০০-১০০০ টাকায়। এতে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন নারীরা। উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে কম বেশী শীতলপাটি বুনতে দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশী শীতলপাটি তৈরি হয় উপজেলার ইছাখালী, বামনসুন্দর, কাটাছড়া, নাহেরপুর, ইসলামপুর, মিঠাছড়া এলাকায়।

শীতল পাটির কারিগর বামনসুন্দর গ্রামের কহিনুর বেগম বলেন, পাটিপাতা সংগ্রহ করে প্রথমে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর আবরণ ছাড়িয়ে তোলা হয় দুই রকমের বেত। তারপর রঙ দিয়ে রাঙানো হয়। এরপর শুরু হয় পাটি বোনা। শীতল পাটিতে গাছ-গাছালি, পাখি, মসজিদ, হরিণ, বাঘ, ফুল, হাতি, ঘোড়ার আকৃতি দিয়েও বোনা হয়। তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকের পণ্য সহজলভ্য হলেও শীতল পাটির আলাদা কদর আছে।

উপজেলার মিঠাছরা বাজার, বামনসুন্দর বাজার, ঝুলনপোল বাজার, আবুতোরাব বাজার, আবুরহাট বাজার, মাদবারহাট বাজার, শান্তিরহাট বাজার, বড়দারোগারহাট বাজারে শীতল পাটি বেচা কেনা হয় সবচেয়ে বেশী। সরেজমিনে মিঠাছরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই শুরু হয়েছে শীতল পাটি বেচাকেনা। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন পাটি সংগ্রহে। সপ্তাহের প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার এমনই চিত্র দেখা যায় চট্টগ্রামে শীতল পাটির সবচেয়ে বড় বাজার মিঠাছরা বাজারে।

শীতল পাটি বিক্রি করতে আসা আলেয়া বেগম জানান, একটি শীতল পাটি বুনতে সময় লাগে ১৫-২০ দিন। ৭ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৬ ফুট প্রস্থের একটি শীতল পাটি ৯০০-১০০০ টাকা, ৫ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৩ ফুট প্রস্থের পাটি ৪৫০-৫০০ টাকা, সিঙ্গেল শীতল পাটি ৩৫০ টাকা, বুক্কা পাটি ১৩০-২৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। ইজারাদারের তথ্য মতে, সপ্তাহে এ বাজারে শীতল পাটির লেনদেন হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো। শীতল পাটি ব্যবসায়ী মনসুর আলম বলেন, মিরসরাইয়ের শীতল পাটিগুলোর গুণগত মান খুবই ভালো। আমরা স্থানীয় বাজারগুলো থেকে পাটি ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মিরসরাইয়ের প্রতিটি গ্রামে শীতল পাটি তৈরি করা হয়। এখানকার শীতলপাটির কদর সারাদেশে রয়েছে। আর্থিক সংকটে কেউ যদি শীতল পাটির কাঁচামাল কিনতে না পারেন তাহলে তিনি সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান জানান, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শীতল পাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। এছাড়া কেউ যদি আর্থিক সংকটে পড়েন এবং আমাদের সহযোগী কামনা করেন তবে তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। 

ইত্তেফাক/এমআর