সোমবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ৩ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

বিপ্রতীপ ও অন্যান্য 

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৯:৩৫

কলটা ছেড়ে গেছে কেউ 
তারপর যখন ফেলে রাখা হলো মর্গে
ভীষণ ভয় ঘিরে ধরলো
আলো এত কম যে অবাক হবার উপায় ছিল না
খুন হওয়ার আগেও তো কোথাও আলো দেখিনি।

যাকগে
কলটা কেউ ছেড়ে রেখে গেছে
জল পড়ার শব্দ ভীষণ অসহ্য!
মনে হয় ক্ষয়ে যাচ্ছে পৃথিবী
মগজের ভেতরে তোলপাড়!
তড়পাই! ধড়ফড় করি! জল পড়ার শব্দ থামে না।

মর্গের ভেতর থ্যাঁতলানো লাশের সারি
কাটা-চেরার টেবিলে ছুরি কাচির পাশে আমার অপেক্ষা
অথচ নিদারুণ জল পড়ার শব্দ!
খুনিকে কাছে পেলে আরেকটু সময় চেয়ে নেয়া যেতো হয়তো
ছুরির ফলায় বিখণ্ড হওয়ার আগে
শেষ আর্তনাদের আগে
একটু সময় চাইলে নিশ্চয় সম্মত হতেন মহত্তম খুনি!

কলটা ছেড়ে গেছে কেউ অনন্তকাল ধরে
জল পড়ে যাচ্ছে!
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে নিশ্চয় খুনির কাঁধে ভর দিয়ে এগিয়ে যেতে চাইতাম
চারিদিকে জল গড়ানোর অনন্ত শব্দ...


বিপ্রতীপ 
বিপ্রতীপ হাওয়ায় পদ্মিনীঘ্রাণ। মাথালছায়া। সিঁথিকাটা আল। দূর চিকচিক চিরকাল। অমন সাহারায় কেন হব না তৃষ্ণার্ত!
আমাকে যে ভাবে, আমি তার গান ছুঁয়ে, সুর ছুঁয়ে ভাসি দখিনায়। ইশারা আঙুল ছিল যেখানে, সেই মাঠে ধুতুরার মায়া লেগে থাকে!
খাঁচা এবং পালকের পাশে ছিল দানা-পানির সমাহার। পাখিটা ধ্রুপদী উড়ালে উড়ালে ক্লান্ত। আকাশ অবসরে গেলে নিল মহাশূন্যে সেই চিকচিক!

কম্পমান অগ্নি-হিম। পুরুষ এবং মানুষ। বিভক্ত কালের ঘোরে রাখাল অথবা রাজা। বাঁশিটা বাজুক। দুজনার দৃশ্যাদ্বারে কোমল ক্যানভাস। নাসারন্ধ্রে ঘ্রাণ ভাসে সুলক্ষণা সমীরণে।

প্রতিবাদটি যখন কবিতার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে
প্রতিবাদটি যখন কবিতার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে! তখন পাণ্ডুলিপির পাশেই একটা কান্নার রোল, বেদম আছাড়ি-পিছাড়ি... ভাঙা মন্দিরের সামনে পূজারীদের বুকভাঙা আর্তনাদ! ঢুকে যেতে চাইলো চরণের পরতে পরতে, আর আমি কেবল খুঁজছি মানবিক প্রেম ও মমতা! এভাবে কবিতার ভেতরে ঢুকে গেলো বিভ্রান্ত উন্মাদ! যদিও তখনো ফুলের বাজারে ভীষণ ভীড়, শিশুরা স্কুলে যায়, পাখিরা ডানা ঝাপটায়, অথচ মানুষের বুক বরাবর ঢুকে যাচ্ছে ছুরি! দেবীর বেদিতে মানুষের অপমান! কুৎসিত হানা পবিত্র মন্দিরে! কবিতার ভেতরে প্রেমিকার চুমুর বদলে দলে দলে ঢুকে পড়ছে এইসব বিভীষিকা!

কবিতাটি ভারাক্রান্ত হতে হতে গেঁথে গেলো ধর্মের কল-কবজায়!‘সবার উপরে মানুষ সত্য’— বলার আগে একটি পাখি গান গেয়ে গেলো, একটি বুনোহাঁস জলে ভাসলো সারা বিকেল, ফুল ফুটলো, ‘তাহার উপরে নাই’—বলে গেলো অনন্ত-বাউল বাতাস...

ইত্তেফাক/এনই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কবিতা

মঈন ও তার বাইসাইকেল 

‘তোমরা নতুন লেখক তৈরি করো না বাপু’

অন্যের সিলেবাসে চলার দাসত্ব ও আত্মহত্যার দর্শন 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ফাদার দ্যতিয়েন যেভাবে হয়ে ওঠেন বাঙালির আত্মজন 

জীবন কি ‘পোকা’ হয়ে ওঠারই নাম? 

কবিতা

অভিভূতকর অপেক্ষা