মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রতি শুক্রবার গড়ে ১৫ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা!

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২১, ০১:০৮

করোনার সংক্রমণ কমে আসায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষা নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ে চাকরির পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। গত দুই মাস ধরে প্রতি শুক্রবার গড়ে ১৫টির অধিক প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

একই দিনে পরীক্ষা পড়ায় চাকরি প্রত্যাশীদের অনেকেই টাকা খরচ করে আবেদন করেও বেশিরভাগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এ কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তারা বলেন, এক দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা থাকলে যেকোনো একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এতে চাকরির সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বহু প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা এতোদিন ঝুলে ছিলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এখন প্রতি শুক্রবার একাধিক প্রতিষ্ঠান চাকরির পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করছে। শুক্রবার মূলত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার কারণে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে চাকরির পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চাকরির জন্য একক কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় করা সম্ভব নয়। এর আগেও শুক্রবার এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষা হতো। তবে করোনার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত পরীক্ষা ঝুলে থাকায় শুক্রবার ১৫টির অধিক পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। 

চাকরি প্রার্থীরা বলছেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাদের কারণে প্রার্থীর অর্থ ও শ্রম উভয়ই নষ্ট হচ্ছে। যদি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সমন্বয়ের জায়গা থাকতো তাহলে এই সমস্যায় পড়তে হতো না। প্রতিটি পদে চাকরির আবেদনের জন্য একজন প্রার্থীর ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর টিউশনির কষ্টের টাকায় আবেদন করে পরীক্ষা দিতে না পারাও কষ্টের।

আগামীকাল শুক্রবার ১৯টি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষা রয়েছে। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর ১৩টি প্রতিষ্ঠানের, ২২ অক্টোবর ১২টি প্রতিষ্ঠানে, ৮ অক্টোবর ১৫টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ২১টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাঝে তিন শুক্রবারে ১০টির অধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 

একই দিনে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুর আহমদ বলেন, সাধারণত পিএসসি কোনো পরীক্ষা আয়োজনের অন্তত এক থেকে দেড় মাস আগে পরীক্ষার তারিখ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রার্থীদের জানিয়ে দেয়। এতে অন্যান্য কর্তৃপক্ষের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়। বিষয়টি সবাই যদি খেয়াল করে তারিখ নির্ধারণ করে, তাহলে এক দিনে একাধিক পরীক্ষার বিষয়টি এড়ানো সম্ভব।

আগামী শুক্রবার যে ১৯ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা : আগামী শুক্রবার সকাল, দুপুর ও বিকালে যে ১৯টি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষার সূচি ঠিক হয়েছে: স্থানীয় সরকার বিভাগ, কর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-১৪, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, শ্রম আদালত সিলেট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, খাদ্য অধিদপ্তর, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, সমন্বিত সাতটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বগুড়া, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

 

 

ইত্তেফাক/এমএএম