পুলিশের আটকের পর মৃত্যু, তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২১, ০৩:১৭

রংপুরের হারাগাছে তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ প্রশাসন। বুধবার (৩ নভেম্বর) এই তথ্য হাইকোর্টকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপরই আদালত ওই তদন্ত কমিটির রিপোর্টসহ নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তলব করেছেন। আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে এইসব রিপোর্ট আদালতে দাখিল করতে হবে। বিচারপতি মামুনুর রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার স্বত:প্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। 

এর আগে ওই ঘটনায় রংপুর পুলিশ কমিশনারের প্রতিবেদন আদালতে পড়ে শোনান অমিত দাস গুপ্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুরের হারাগাছে পুলিশের বিরুদ্ধে তাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, নিহত তাজুলের সুরতহাল রিপোর্টে আঘাতের চিহ্ন নেই উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ব্যক্তির কাছে পাঁচ গ্রাম হেরোইন পাওয়া গিয়েছিলো বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

সোমবার মাদক সেবনের অভিযোগে তাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে হারাগাছ থানার পুলিশ। পরে তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ক্ষোভ থেকে স্থানীয় জনগণ হামলা করে ওই থানায়। এতে জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। তবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ। 

এ ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইসব প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি আদালতে বলেন, পুলিশ হেফাজতে বিভিন্ন সময়ে আটক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। এ ঘটনাটিও তেমন। এতে ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। উচ্চ আদালত এ বিষয়ে স্বত:প্রণোদিত হয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন। এরপরই হারাগাছে প্রকৃত কি ঘটনা ঘটেছিলো সেটা জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ওই বিষয়ে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা হাইকোর্টকে জানানো হয়

 

ইত্তেফাক/এমএএম