সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম 

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:২৯

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। জানা গেছে, কয়েক বছর আগে দুর্বল এই ভবনের এক তলা সংস্কার করে তার ওপর দুই তলা ঊর্ধ্বমুখী ভবন সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে হাসপাতালের আউটডোর ও প্রশাসনিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিভিল সার্জন জানান, ভবন সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে।

গত ২ নভেম্বর সদর উপজেলার মাছখোলা গ্রামের আব্দুল জব্বারের স্ত্রী আয়েশা খাতুন দুপুরে তার পুতনিকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরী বিভাগে শিশুটির ভর্তির সময় ভবনের নীচে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আয়েশা খাতুনের মাথায় আকস্মিকভাবে ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাত্ক্ষণিকভাবে শিশুর চিকিৎসা রেখে দাদী আয়েশাকে নিয়ে চিকিৎসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন চিকিৎসকরা। মাথায় ২৮টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। ছোট-খাট এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে সদর হাসপাতালে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ করে বলেন, সদর হাসপাতালের পুরনো ও দুর্বল ভবনের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন শঙ্কায় থাকেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। এছাড়া ভবনের কোথাও না, কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে। এরপরও ছাদের ওপর কক্ষ করে টিনশেড দিয়ে ভবন বাড়িয়ে সেখানেই মেডিসিনের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন। এই হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও তাদের সঙ্গে আসা স্বজনদের প্রতি মুহূর্তে ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কথা স্বীকার করে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়াতে ভবনটির এখনই সংস্কার বা নতুনভাবে নির্মাণের দাবি করেন।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুসাইন সাফায়াত জানান, আশির দশকের এই দুর্বল ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ভবনের চাপ তো আছেই তার সঙ্গে রোগীর চাপ আরও বাড়তি।

দ্রুত সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে সিভিল সার্জন আরও বলেন, ভেঙে পড়লে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটবে। তাই বাজেট আসলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংস্কার করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক/এমআর