লালমনিরহাটে এবারেই প্রথম একশ টাকা ব্যাংক ড্রাফটে পুলিশে (ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে) ২৬ জন চাকরী পেয়েছেন। এদের মধ্যে ২২ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়ে। বিনা টাকায় চাকরী পেয়ে তারা সবাই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এসব চূড়ান্ত প্রার্থীর অভিভাবকরা কখনও বিশ্বাসই করতে পারেনি তাদের সন্তানদের টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরী হবে। আর অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা।
জানা যায়, সারাদেশের ন্যায় লালমনিরহাট জেলাতেও পুলিশের "ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে'' ৭ টি ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) রাতে পুলিশ লাইনে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন ও নবনির্বাচিত ২৬ জনকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকায় ৫ জনকে রাখা হয়েছে। নির্বাচিত সদস্যদের মেডিকেল রিপোর্টে যদি কেও বাদ পরে তাহলে সেই তালিকা থেকে বেশি মার্ক পাওয়াদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া হবে বলে পুলিশ সুপার জানান।
গত ২৫ অক্টোবর একশ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে ৮শ ৪ জন "ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে'' অংশ গ্রহণ করেন। বিভিন্ন ধাপ শেষ করে ৩শ ৬০ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে একশ ৯ জন পাশ করেন। পরে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২৬ জনকে চূড়ান্ত ও ৫ জনকে অপেক্ষমাণ রেখে ফল প্রকাশ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নিয়োগ পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) রংপুর সিফাত ই রব্বান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুড়িগ্রাম সার্কেল) উৎপল কুমার রায়, লালমনিরহাট সদর থানার ওসি শাহা আলম ও জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।
লালমনিরহাট এয়ারপোর্ট এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে আলামিন আকাশ বলেন, আমি কল্পনাও করতে পারিনি আমার একশ টাকায় পুলিশে চাকরী হবে। আমার ধারনা ছিল যদি আমি পরীক্ষাতেও পাশ করি তাহলে আমার কমপক্ষে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হবে। কিন্তু আমার ধারনাকে ভুল প্রমাণ করে কোন ঘুষ ছাড়াই পুলিশে "ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে'' পাশ করলাম।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা (বিপিএম,পিপিএম) বলেন, ২৬ জনের মধ্যে ৪ জন মেয়ে তাদের একজন মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। ২২ জন ছেলের মধ্যে ১৩ জন সাধারণ কোটায়,৭ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ও ২ জন পুলিশ পোষ্য কোটায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জীবনে একশ টাকায় পুলিশে চাকরী এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পেরে ধন্য হয়েছি।
