গর্ভাবস্থায় যেসব ভ্রান্ত ধারণা এড়িয়ে চলবেন

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২১, ১৮:৪৪

গর্ভাবস্থায় ভীষণ সতর্ক থাকতে হয়। আর এসময় কিছু ভ্রান্ত ধারণা বা নিয়ম মায়েরা মেনে চলেন। অবশ্য এসব নিয়ম তারা পালন করেন নিজের ও নিজের সন্তানের ভালোর জন্যেই। সন্তানের মঙ্গল চিন্তাই বেশি কাজ করে। কিন্তু এগুলো পালন করে আদৌ কোনো লাভ নেই। উলটো এতে ক্ষতি হতে পারে। এসকল নিয়মের ফলে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে৷ এছাড়া স্বাস্থ্যের উপর চাপ পড়ে। আসুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় কি কি মিথ আমাদের বেশি সমস্যায় ফেলে:

দুজনের মাপে খাবার 

চেষ্টা করবেন খাবারে ২৫০-৩০০ ক্যালরি বেশি গ্রহন করতে
এতদিনকার অভ্যাস ছেড়ে দ্বিগুণ খাওয়ার অভ্যাস করাটা একদমই অসম্ভব। তাও নাকেমুখে গুজে অনেকে খেয়ে থাকেন। এতে লাভ হয়না। ভ্রুণের অত খাবার লাগেনা। মূলত মায়ের দেহের অতিরিক্ত খাদ্য উপাদান ভ্রূণকে বাড়তে সাহায্য করে৷ গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস আগের মাপেই খান। তবে চেষ্টা করবেন খাবারে ২৫০-৩০০ ক্যালরি বেশি গ্রহণ করতে। দুধ, কলা আর সিরিয়াল দিয়েই অনেকটুকু ঘাটতি মিটিয়ে নেয়া যায়। 

পরামর্শ ছাড়াই ছোটখাটো ঔষধ সেবন

অনেক সময় ছোটখাটো ঔষধ জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টি করে

আমাদের অভ্যাস সমস্যা খুব বড় না হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হইনা। তাই ছোটখাটো ওষুধ এমনিতেই খাওয়া যায়। এটা ভুলেও করবেন না। কারণ অনেক সময় ছোটখাটো ঔষধ জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টি করে৷ 

যতটুকু পারা যায় কাজ এগিয়ে রাখা

অনেকেই ভাবেন আমি যেহেতু তেমন কিছু করতে পারছি না তাই যতটুকু পারি কাজ এগিয়ে রাখি

গর্ভাবস্থায় শরীর ভীষণ ক্লান্ত থাকে। তাই অনেকেই ভাবেন আমি যেহেতু তেমন কিছু করতে পারছি না তাই যতটুকু পারি কাজ এগিয়ে রাখি। এমনটা ভুলেও করবেন না। চেষ্টা করবেন ঘুমটা যেন ঠিক থাকে। নাহলে স্বাস্থ্য ভেঙে পড়বে। 

শুয়ে বসে আরাম করার ভাবনা

গর্ভাবস্থায় অনেক ব্যায়াম করা যায়

এই সময় ভারি কাজ তো করা যাবেনা সেটা আমরাও মানি। কিন্তু একেবারে অকেজো হয়ে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। গর্ভাবস্থায় অনেক ব্যায়াম করা যায়। এছাড়া একটু হাটাহাটির অভ্যাস গড়ে নিতে হবে। এতে গর্ভে থাকা সন্তানের বৃদ্ধিও ভালো হবে। আপনার স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। 

রুচি নয় বরং স্বাস্থ্যকর খাবার

মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে হলে মিষ্টির পরিপূরক কোনো ফল খেতে পারেন

গর্ভাবস্থায় মিষ্টি খাওয়া বাদ দেয়াই ভালো। এতে ওজন বেড়ে যেতে পারে। শরীরে মেদ জমতে পারে৷ তবে একেবারেই নিজের পছন্দের খাবার বাদ দেয়াটাও ঠিক না। মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে হলে মিষ্টির পরিপূরক কোনো ফল খেতে পারেন। কিসমিস, আখরোট এক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী। তবে একজন খাদ্য ও পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করলে ভালো হয়৷

 

ইত্তেফাক/এআই