দরজায় কড়া নাড়ছে নাকি জানালায় খট খট করে জানান দিচ্ছে শীত- এই বিষয়টি সুরাহা করার আগে, ঋতুর এই পরিবর্তনে ত্বক ও চুল কীভাবে সুন্দর রাখা যায় সেটা জানা বেশি দরকার। শীতকালে ত্বক যতটা যত্নআত্তি পায়, চুল তার সিকিভাগও পায় না। ফলে শীতের শুষ্কতার হামলায় চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ, বিবর্ণ। সঙ্গে বোনাস হিসাবে যুক্ত হয় খুশকি। রুক্ষ শীতে চুলে চমক রাখার টিপসগুলো জেনে নিন।
- যদি আপনার চুল হয় শুকনো খড়ের মতো তাহলে শীতে রুক্ষতা বাড়বে। সেজন্য প্রতিদিন শ্যাম্পু বা চুল ব্লো ড্রাই এই মৌসুমে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন। শ্যাম্পু করবেন, তবে এক থেকে দুই বার। বাকি দিনগুলোতে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে কন্ডিশনার লাগাতে পারেন চুলের ডগার দিকে। আর হ্যাঁ, শীতকালে অনেকেই গরম পানিতে গোসল করেন। ভুলেও গরম পানি চুলে ছোঁয়াবেন না।
- গোসলের পর ভেজা চুল শুকনো করার জন্য বেশ কিছুক্ষণ তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন। ড্রায়ার এড়িয়ে চলাই ভালো। তোয়ালেটা চুলে পাগড়ির মতো করে জড়িয়ে রেখে মেকআপ করা বা পোশাক পরার মতো কাজগুলো করে নিতে পারেন। এতে চুল অনেকটাই শুকিয়ে যাবে। বাকিটা প্রাকৃতিক হাওয়ায় এমনিতেই শুকিয়ে যাবে।
- সেরাম বা কন্ডিশনার ব্যবহার না করলে, চায়ের লিকারে একটা গোটা লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে শ্যাম্পু করার পর চুল ধুয়ে ফেলুন। তাছাড়া, একমগ পানিতে বড় চার চামচ মধু মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পর সেই মিশ্রণ চুলে ঢেলে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন। তারপর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এর প্রভাবে চুল থাকবে উজ্জ্বল ও কোমল।
- নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে স্ক্যাপে ম্যাসাজ করতে পারেন গোসলে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে। তাতে চুলের রুক্ষতা দূর হবে। আরও একটি হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। বড় এক চামচ অ্যালোভেরা জেল, এক চা চামচ মধু ও দুই চামচ নারকেল তেলের মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন। তার একঘণ্টা পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এসব হেয়ার প্যাকের পাশপাশি এই শীতে হাফ কাপ দুধে চার চামচ মধু মিশিয়ে নিয়ে স্ক্যাল্পে ও চুলের ক্ষতিগ্ৰস্থ অংশে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখার পর ধুয়ে ফেললে ভালো উপকার পাবেন।

