নাগেশ্বরীতে ভাঙছে দুধকুমার

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২১, ০৩:০২

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রমত্তা দুধকুমারে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গিলে খাচ্ছে অনেক মানুষের সুখ-স্বপ্ন। সর্বহারা মানুষের বিলাপে ভারী হচ্ছে পরিবেশ। পাড়ি জমাচ্ছে তারা অন্যত্র। 

দাবি উঠেছে, নদীর গতিপথ সোজা, খনন কাজ দ্রুত শেষ ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদিত দুধকুমার নদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের।

দুধকুমারের গভীরতা কমায় স্রোতে বেড়েছে। এ নদের গতিপথ আঁকাবাঁকা হওয়ায় সে স্রোত সজোরে আঘাত হানছে কিনারে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় দেখা দেয় বড় বড় ফাটল। পর মুহূর্তেই তা স্বশব্দে ধসে যায়। এভাবেই নদ তীরবর্তী ভূখণ্ড ভেঙে পানিতে মিশে ভেসে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে পুরাতন জনপদ। কয়েকদিনের ব্যবধানে অবস্থাপন্ন মানুষ ফসলি জমি, ঘর-বাড়ি, বসতভিটা হারিয়ে হয়ে যাচ্ছে নিঃস্ব। শুধু চোখে জল নিয়ে শূন্য হাতে অজানা আশংকায় পরিবার নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে অন্যত্র। 

এ চিত্র এখন দুধকুমার তীরবর্তী বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মালিয়ানী, আনছারহাট, ওয়াবদা ঘাট, সর্দারটারী, রায়গঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচমাথা ঘাট, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কুমড়িয়ারপাড়, কুমেদপুর, নামারচর, শালমারা, মৈশালপাড়া, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের খেলারভিটা, ইসলামপুর গ্রাম, চররহমানের কুটিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। 

ছবি: ইত্তেফাক

ভাঙনের শিকার মালিয়ানী গ্রামের শহিদুল ইসলাম, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের খেলারভিটা গ্রামের আব্দুল জব্বার, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কুমড়িয়ারপাড় গ্রামের হরিশ চন্দ্র মোদক, অনন্ত চন্দ্র মোদক, সুজন মিয়া, আব্দুল্লাহ, জামাল উদ্দিনসহ সর্বস্ব হারানো এ মানুষগুলো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, একমাত্র দুধকুমার নদ আমাদের নিঃস্ব করেছে। আমরা ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে গরীব, নিঃস্ব ও অভাবী হয়ে গেছি। এখন কি করব ভেবে পাচ্ছি না। 

কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র রায়, কালীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক জীবন চন্দ্রসহ অনেকেই জানান, নদীর গতিপথ সোজা, দ্রুত খনন কাজ শেষ ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদিত দুধকুমার নদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কমে যাবে ভাঙন। তখন হয়তো সব হারিয়ে আর কাউকে বিলাপ করতে হবে না। কিন্তু কী কারণে বন্ধ আছে খনন কাজ আছে সেটা কর্তৃপক্ষই জানেন। 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, ওইসব এলাকায় দুধকুমারের ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে।

ইত্তেফাক/এএএম