ইম্পোস্টার সিনড্রোমে ভুগছেন না তো

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২১, ১৮:০২

এইতো কদিন আগেই সফলভাবে একটি কাজ শেষ করলেন। অন্যরা আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ নিজের প্রাপ্তির প্রতি ঠিক আস্থা স্থাপন করতে পারছেন না। বরঞ্চ এক ধরণের হতাশা কাজ করছে। ভাগ্য বা তাকদির যাই হোক, দৈবের প্রতিই আপনার ভক্তি এখন। নিজের কাজ বা দক্ষতার বিনিময়ে এই প্রাপ্তিকে সহজে মেনে নিতে পারছেন না। শুধু এই কাজই না, পূর্ববর্তী কোনো কাজেই ঠিক সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছেন না। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থেকেই হতে পারে ইম্পোস্টার সিনড্রোম। ইম্পোস্টার সিনড্রোম এক ধরণের মানসিক সমস্যা। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছে এতে নারীরাই ভুগছে বেশি। 

হ্যাঁ, নিজের দক্ষতা কিংবা কাজের ক্ষমতায় যেমন আস্থা থাকেনা, সেই প্রাপ্তি নিয়েও থাকে হাজারো সন্দেহ। ইম্পোস্টার সিনড্রোমে মূলত নারীদের বেশি ভুগতে দেখা যায়। এই রোগটি সর্বপ্রথম আলোচনায় আসে ১৯৭৮ সালে। মনোবিজ্ঞানী পলিন রোজ ক্ল্যান্স ও সুজান ইমস তাদের গবেষণায় সর্বপ্রথম এই রোগের কথা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেন। পুরুষ ও নারী উভয়েই এই রোগে ভুগতে পারেন। তবে পুরুষরা একসময় সামাজিক অনুপ্রেরণায় নানাভাবে নিজের উপর কিছুটা আত্মবিশ্বাস রাখতে শেখেন। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বৈশিষ্ঠ্যসূচকভাবে কিছুটা আলাদা। নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণগুলো হলো:

  • কোনো প্রতিযোগিতামূলক স্থানে যেসকল দক্ষতা দাবী করা হয় তার কোনো একটিও এই রোগে আক্রান্ত নারীর না থাকলে তারা অংশগ্রহণ করেন না। 
  • লোকসম্মুখে লজ্জিত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। সচরাচর কাউকে কোনো প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়ার থেকে বেশি ভয় থাকে প্রশ্নটা বোকার মতো হয়ে যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে। 
  • উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারীরা সচরাচর আত্মবিশ্বাসের সংকটে ভোগেন। প্রতিটি মানুষেরই কিছু জন্মগত দক্ষতা বা প্রতিভা থাকে। কিন্তু উচ্চ লক্ষ্যমাত্রায় পৌছুতে গেলে সবসময় কিছু নতুন দক্ষতা করায়ত্ত করতে হয়। এই রোগে আক্রান্ত নারীরা সচরাচর নিজেদের দক্ষতা কোনো সময়ে কাজে না লাগলে অসহায় অনুভব করেন। নিজেকে অযোগ্য ভাবতে শুরু করার প্রবণতা থাকে। 


কিন্তু এই রোগ হয় কেন? মূলত নারীদের এখন ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ বেশি। একইসাথে বাধাও বেশি। সচরাচর কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের এই ক্ষেত্রে বেশি বাধার সম্মুখীন হতে হয়। যেহেতু অনুসরণ করার মতো নারী বেশ কম তাদের কর্মস্থলে তাই আশেপাশের সামাজিক প্রভাবে এই রোগ হতে পারে। কর্পোরেট সেক্টরে নারীদের সবচেয়ে বেশি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ অনেকেই ভাবেন নারীর সৌন্দর্য দিয়ে তারা নিজেদের স্থান গড়ে নিয়েছেন। এই পরিবেশে কাজ করার সময় মানসিক চাপ অনেকটা এমন ভাবাতে প্রভাব রাখে। 


অর্থাৎ মানসিক প্রভাবক এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত এই রোগ নিরাময়ের সহজ কোনো সমাধান এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে নিজের প্রতি সহানুভূতি রাখার চেষ্টা করতে হবে। নিজেকে সময় দেয়া এবং সম্পর্কগুলো ঠিক রাখার মাধ্যমে নিজেকে একা হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখতে শিখতে হবে। তবেই এই রোগ থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

 

ইত্তেফাক/এআই