চোরাইপথে আনা মোবাইল ফোন বিক্রি, আটক ৭

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৪৮

দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থেকে চোরাইপথে অবৈধ মোবাইল ফোন দেশে নিয়ে আসছিল একটি চক্র। বাড়তি মুনাফার জন্য রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এসব মোবাইল ও যন্ত্রাংশ আনা হয়। পরে তা বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করে তারা। আর এভাবে নামীদামী ব্র্যান্ডের ফোনসেট অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি হয় বলে আকৃষ্ট হয় ক্রেতা।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে এ চক্রের ৭ জনকে আটক ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩০৯টি অবৈধ মোবাইল ফোন সেট জব্দ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) রাত থেকে বুধবার (১০ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত পল্লবীর বিভিন্ন মার্কেটে অভিযান চালায় র‍্যাব-৪। 

আটককৃতরা হলেন- মাহমুদুল হাসান মাসুদ (২৮), জিসান (২৫), রাসেল (২৮), বিপ্লব হোসেন (৩২), রায়হান (২৩), রকি (১৯) ও হাসিবুল ইসলাম (২১)। এদের সঙ্গে জব্দকৃত মোবাইলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

অভিযানে বিটিআরসির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বর যাচাই করেন। এর মাধ্যমে চোরাই পথে আমদানি করা ফোনগুলো শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে আইফোন ৩৭টি, ভিভো ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন ৩৮টি, অপ্পোর ৬৩টি, স্যামসাংয়ের ৯টি, রেডমির ৩৬টি, সনি এক্সপেরিয়ার দুটি, এইচটিসির চারটি, সিম্ফনির একটি, এলজির তিনটি, নোকিয়ার দুটি, রিয়েলমির সাতটি, পোকোর একটি ও নার্জোর একটি মোবাইল রয়েছে।

বুধবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক জানান, যারা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ফোন সেট দেশে এনে বিক্রি করবে, তাদের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মোবাইল ব্যবহারে গ্রাহকের বিভিন্ন বিড়ম্বনার পাশাপাশি ও আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন মোবাইল কেনার সময় নির্দিষ্ট নিয়মে আইএমইআই যাচাই করে কেনার পরামর্শ দেন র‍্যাবের এ কর্মকর্তা।

আটকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তাদের অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইত্তেফাক/কেএইচ/এসটিএম