ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া দোকানী মো. মোকারম হোসেন। প্রায়ই তিনি দোকানে বসে সড়কে দেখেন দুর্ঘটনার চিত্র। অটোরিকশা উল্টে কারও হাত বা পা ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য।
তিনি বলেন, খানাখন্দে ভরা সড়কে যেন এই ঘটনা নিত্যদিনের। এখানে এমন কোন সড়ক নেই কোন ভালো মানদণ্ডে পড়ে। ইউনিয়ন পরিষদ থাকতে যে সড়ক ছিলো। সেই সড়কই আছে এখন। কোন উন্নয়ন হয়নি।
তিনি জানান, সিটি করপোরেশন হওয়ার পরে তাদের কোন নাগরিক সুবিধাই বাড়েনি। দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বর্ষা মৌসুমে তাদের ভোগান্তি দিগুণ হয়ে যায় বলে দাবি তার। সিটি করপোরেশন থেকে এখনো কোন হোল্ডিং নম্বর বসেনি তাদের। সিটি করপোরেশন করও নেয়না কোন নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেনা বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষিকা বলেন, এখানে চলাচলের মাধ্যম অটোরিকশা। রিকশায় করে চললে পুরো শরীর ব্যথা হয়ে যায়। কাঁচা সড়কে ইটের খোয়া বিছিয়ে দেওয়ায় অটো রিকশার ঝাঁকুনিতে অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। আমাদের এসব কষ্টের কথা যেন শোনার কেউ নেই।
ঢাকা উত্তর সিটির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডটি উত্তরখান থানার বাবুর পাড়া, বড়বাগ, ওজাপাড়া, রাজাবাড়ী, মুন্ডা, পুলার টেক, ভাটুলিয়া, মাউছাইদ, বাদুরীপাড়া, চানপাড়া, ফৌজারবাড়ী, গোবিন্দপুর, খঞ্জুরদিয়া, কমুদখোলা, মৈনার টেক, নিনিরটেক, নোয়াখোলা, সাওরার টেক ও উজামপুর এলাকা নিয়ে গঠিত।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাড়া-মহল্লায় পাকা সড়ক নেই। দীর্ঘদিন সংস্কার না করে ইটের খোয়া বিছিয়ে দেওয়া রাস্তাগুলোও চলাচলের অনুপযোগী। ড্রেনেজ ব্যবস্থা বলতে কিছু নেই।
চামুরখান হেলাল মার্কেট রোড, উলুখোলা রোড ও মাদাবড়ি থেকে হেলাল মার্কেট সড়কের বেহাল অবস্থা। সড়কের মধ্যে রয়েছে বড় বড় গর্ত। হেলাল মার্কেট থেকে মৈনারটেকের সড়কও একই অবস্থা।
সামান্য বৃষ্টি হলে হাঁটুসমান পানি জমে যায় বেশিরভাগ সড়কে। এমনকি শুকনো মৌসুমেও রাস্তার কোথাও কোথাও পানি জমে থাকে। রাস্তায় ইটের খোয়া থাকায় পথচারীরা হেঁটেও চলতেও হোঁচট খান। জিয়বাগের সড়কেও রয়েছে বড় বড় গর্ত। পাকা সড়কের ইট সুরকি উঠে এখন কাঁচা সড়কে পরিণত হয়েছে। একই রকম বেহাল সড়ক পুলার টেক, মৈনার টেক, সাওরার টেক ও উজামপুর এলাকার সড়ক।
বাসা বাড়ির ময়লা আবর্জনাও বাড়ির আশে পাশে মানুষকে ফেলে রাখতে দেখা গেছে। গ্রামীণ পরিবেশে সড়কের ওপর পড়ে রয়েছে ময়লা আবর্জনা।
নাগরিক সুবিধা থেকে এই ওয়ার্ড বঞ্চিতের পাশাপাশি নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি কাগজপত্র পেতেও ভোগান্তির অভিযোগ এলাকাবাসীর। বেশিরভাগ সময়ই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে তার দপ্তরে পাননা বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য কয়েকবার তার অফিসে গিয়েও কাউন্সিলরকে পাওয়া যায়নি। তিনি তার দপ্তরে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সেবার দেওয়ার কথা লিখে রাখলেও তিনিই অফিসে আসেন না বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানার জন্য তাকে কয়েকদিন ধরে ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। গত বৃহস্পতিবার তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরলেও পরিচয় শুনে ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন।
