শরীয়তপুরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের ৫ জন প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের কারণে তারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এই অভিযোগ করেন।
আওয়ামী লীগের পরাজিত ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন, আংগারিয়া ইউনিয়নের আসমা আক্তার, মাহমুদপুরে লিয়াকত হোসেন, ডোমসারে মিজান মোহাম্মদ খান, শৌলপাড়ার মো.আলমগীর হোসেন ও পালং ইউপির আবুল হোসেন দেওয়ান।
জানা যায়, শরীয়তপুর সদরের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। তারা তাদের পরাজয়ের পেছনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া তারা ওই ইউনিয়নগুলোতে পুনরায় নির্বাচন দাবি করছেন।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, গত ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে চন্দ্রপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস সালাম ও বিনোদপুর ইউপিতে হামিদ সাকিদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আর স্বাক্ষর জাল করে সদস্য প্রার্থীদের মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করার ঘটনায় চিতলিয়া ইউপির নির্বাচন বাতিল করেছে খোদ নির্বাচন কমিশন। এছাড়া বাকি ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে রুদ্রকর ও তুলাসার ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ও জামাল হোসাইন নির্বাচিত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসমা, মিজান, আবুল হোসেন, আলমগীর, লিয়াকত অভিযোগ করে বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ, জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে আমরা দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়েছি। ১১ নভেম্বর ইউপিগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ডোমসার ইউনিয়নে বাড়ি শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন ও সাবেক মেয়র, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, তার ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম কোতোয়াল নৌকার বিপক্ষে, বিদ্রোহী প্রার্থী মাষ্টার মজিবুর রহমান খানের (আনারস) পক্ষে কাজ করেন। এছাড়া আংগারিয়া ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মুন্সী ও তার ছেলে পাবেল মুন্সীসহ লোকজন আওয়ামী লীগ নৌকা প্রার্থী আসমা আক্তারের বিপক্ষে, বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের পক্ষে কাজ করেন। শৌলপাড়া ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আব্দুল আলিম আওয়ামী লীগ নৌকা প্রার্থী আলমগীর হোসেন খানের বিপক্ষে, বিদ্রোহী প্রার্থী এসকান্দারের (ঘোড়া) পক্ষে কাজ করেছে। যা দুঃখজনক।
তারা বলেন, নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসন নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান করে। বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় ও নৌকার ব্যাচ পড়া দেখলেই ধাওয়া দেয়। পুলিশ প্রশাসন নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছে। বিদ্রোহী প্রার্থী ও পুলিশের লোকেরা আমাদের লোক আটকে রেখে ভোট কারচুপি করেছে। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন বোমা মেরে নৌকার ক্লাব ভাঙচুর, আমাদের সমর্থকদের মারধর, ঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করে। এতে আমাদের লোক আহত হয়। বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। আমরা মামলা করতে গেলে মামলা নিচ্ছে না পুলিশ।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা দলীয় প্রার্থীদের পাশে না থাকায় পাঁচটি ইউপিতে দলের প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কেন দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
