পার্বত্য অঞ্চলের বেশকিছু এলাকায় সন্ত্রাসীদের বাধায় সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণসহ উন্নয়ন কাজ থমকে আছে। বেশকিছু রাজনৈতিক নামধারী সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ রেখেছেন। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ} এর মত দলের সদস্যরা সন্ত্রাসী কায়দায় এসব উন্নয়ন কাজে বাধা দিচ্ছে। এতে স্থানীয় মানুষের চলাচল ও যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু যোগাযোগ নয় ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানত এসব অঞ্চলে তাদের অস্ত্রের মজুদ আছে বলেই সেখানে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাধা দিয়ে আসছে ইউপিডিএফ। সরেজমিন দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পাহাড়ি সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যদের বাধায় খাগড়াছড়ির রামগড়, গুইমারা ও মাটিরাঙ্গায় ৩৪ কোটির টাকার ৫টি ব্রিজ ও ২টি রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। রামগড়ে ও মাটিরাঙ্গায় প্রকল্পের কাজ শুরু করার পর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা এসে কাজ বন্ধ করে দেয়।
গুইমারায় ৩টি ব্রিজের কাজ শুরুই করতে দেয়নি তারা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিন পার্বত্য জেলায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের (ডি.ডি.আর.আর.আই.পি) কাজ এগুলো। তবে সন্ত্রাসীদের ভয়ে বেশিরভাগ ঠিকাদার সরাসরি অভিযোগ করতে রাজি হননি। এমনকি সাংবাদিকদের কাছে নাম প্রকাশ ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানাতেও ভয় পান তারা।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের অভিযোগ, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফের (প্রসীত) বাধায় তারা প্রকল্পের কাজ করতে পারছেন না। ব্রিজ ও রাস্তা হলে দুর্গম এলাকায় আইন-শৃংখলাবাহিনী দ্রুত যাতায়াত করতে পারবে, এতে পাহাড়ি সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যদের নিরাপদ বিচরণ ও তাদের আস্তানা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা কাজ করতে দেবে না বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের বলা হয়েছে।
ঠিকাদাররা বলেছেন, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। এ অবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সংগঠনের নামে যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন তারা কখনোই মানুষের বন্ধু হতে পারে না। তবে অভিযোগের ব্যাপারে ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপের কেন্দ্রিয় সংগঠক নিরন চাকমার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবারই তিনি ফোন কল কেটে দেন।
বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলো হচ্ছেÑরামগড়ের বৈদ্যপাড়ায় ও বুদ্ধধন কার্বারিপাড়ায় ১০ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ২টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ, গুইমারায় সিন্ধুকছড়ি- নাক্রাইপাড়া-গুইমারা সড়কে ১৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ৩টি আরসিসিসি গার্ডার ব্রিজ, মাটিরাঙ্গায় ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার তান্নাকাপাড়া-অযোদ্ধাম রাস্তা কার্পেটিং ও ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার মাটিরাঙ্গার গোমতি-ভাইবোনছড়া রাস্তা কার্পেটিং কাজ।
প্রকল্পগুলো ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থ বছরের বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে গুইমারার হাফছড়ির ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরি ইত্তেফাককে জানান, ব্রিজগুলো হলে সিন্ধুকছড়ি হতে গুইমারার সড়ক যোগাযোগ সহজ হতো। এছাড়া উপজেলার দুর্গম এলাকা কুকিছড়া ও নাক্রাইপাড়ার মানুষ অনেক উপকৃত হতো। এ ব্যাপারে তিনি সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
গুইমারা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজের লে-আউট দেয়া হয়েছিল। কাজ শুরু করার প্রস্তুতিও তারা নিয়েছিল। কিন্তু ইউপিডিএফের নিষেধের কারণে কাজ শুরু করার সাহস পাচ্ছে না।
মাটিরাঙ্গার তানাক্কাপাড়া-অযোদ্ধা-রামগড় রাস্তা কাপের্টিংকরণ প্রকল্পের ঠিকাদার কবিরঞ্জন ত্রিপুরা অভিযোগ করেন, কার্যাদেশ পাওয়ার পর তিনি কাজও শুরু করেন, এ পর্যন্ত ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। ২-৩দিন কাজ চলার পর ইউপিডিএফের লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। এমনকি, নির্মাণ কাজের জন্য নেয়া ইটগুলো রাস্তার পাশে খাদে ফেলে দেয়। প্রায় ১৫০ বস্তা সিমেন্ট নষ্ট করে দেয়া হয়। ওই সংগঠনের নেতাদের সাথে অনেক যোগাযোগ করেও কাজ করতে দিতে রাজী হয়নি তারা।
