সোমবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ৩ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

কবিতা

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২১, ২১:৪১

একাই সে যায়
আবেদ খান
(হাসান আজিজুল হক স্মরণেষু)

যে মারা যায়, সে একাই যায়
একাকী নিঃসঙ্গ উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টির সামনে 
থাকে না কোনো নিকট পরিজনের অবয়ব
ছায়া ছায়া মানুষেরা দূর থেকে দেখে যায় বিষণ্ন চোখে 
তারপর চলে যায় নৈমিত্তিক জীবনের চাহিদা মেটাতে। 
ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে সকলেই সময় সাজায়
তারই ফাঁকে ঘুরে যাওয়া দেখে যাওয়া সেই চেনা মুখ
যার সঙ্গে আছে খণ্ড স্মৃতির মিছিল।

যে মারা যায় সে একাই যায়
অন্তিম প্রহর-ভাণ্ড তিলে তিলে নিঃশেষ হতে থাকে।
নাসারন্ধ্রে হাতে পায়ে আঙুলে অগণিত টিউব থেকে
প্রাণবায়ু আটকে রাখার প্রবল প্রয়াস 
বোঝে না সে কেন এত আয়োজন ক্ষুদ্র ওই দেহখানি ঘিরে!
বুঝি-বা সে দর্শনীয় বস্তু এক, কিংবা কোনো বন্দি গিনিপিগ।

কিন্তু যে মারা যায় সে একাই যায় 
হাসপাতালের শয্যা নয়, অক্সিজেন-স্যালাইন—কিছুই নয়
দিব্যি যে চলমান প্রতিদিন জীবনের চাকায় ভর করে। 
অথচ মৃত সে, মুখস্ত জীবনের ঘেরাটোপে চলন্ত শবদেহ হয়ে...

কার গল্প বলো
নাসের মাহমুদ

মেঘ তুমি অঝোর ধারায় 
               বৃষ্টি হয়ে ঝরলে
আসলে তুমি কার গল্প বললে?
মেঘ তুমি নানারূপে নানান রং ধরো
কখনো সিঁদুরে লাল, কখনো ভয়ানক কালো
কখনোবা বিদ্যুত্ চমকে বজ্রাঘাত হানো
সত্যি তুমি কার গল্প বোনো?
কলকল ধ্বনি তুলে এঁকেবেঁকে
নদী বয়ে চলে
                 সে কি তোমার কথা বলে?
তটিনী আনন্দ অভিসারে সমুদ্রসঙ্গমে হারায়
সমুদ্র কি নদীর কানে তোমার কথা শুধায়?
[জামালপুর]

রঙ্গমঞ্চে কাঁচাস্বপ্ন
আবু আফজাল সালেহ

সব গা-সওয়া হয়ে গেছে আমাদের।
বোধ নেই, সহমর্মিতা নেই
গণ্ডারের মতো চামড়ায় বোধ আসে
অনেক পরে।
হুইলচেয়ারে বসে নাটক দেখি
লাল, সাদা, প্রচুর নীল তরঙ্গ দেখি
দোল খাই, পপকর্ন খাই
রঙিন স্বপ্ন বুনছি।
ওদিকে দাউদাউ করে পুড়ে 
           যাচ্ছে নয়াবাজার।
[চুয়াডাঙ্গা]


বৃক্ষমানব
গাজী আবদুর রহিম 

গত জনমেও লোকটা মানুষ ছিল
তবে শরীর ছিল রক্তহীন বৃক্ষ কঙ্কাল।
জন্মের সময় শরীরে রক্ত ছিল
মহকুমাশাসক সর্প। তার হুকুমে
ক্রমান্বয়ে ঝরে পড়ে রক্ত শ্রমিক-শরীরের
তারপর একসময় হয়ে যায় বৃক্ষমানব।
[ঢাকা]

সংসার সাজাই অন্ধকারে 
রুদ্র সাহাদাত্ 

উঠোনে তারাদের সাথে কথা বলতে বলতে 
হেঁটে চলেছি, অন্ধকারে খুঁজি আরো অন্ধকার 
এসএমএস পড়ি না এখন 
ফেসবুক-টুইটারও হয় না পড়া
হাসি না কতদিন হোয়াটসঅ্যাপে 
হলুদ চিঠিগুলো পড়ে আছে ধুলোজমা ড্রয়ারে। 
কেন যে বারেবারে সংসার সাজাই অন্ধকারে 
কেন যে বারেবারে পথ হারাই দিনদুপুরে 
[চট্টগ্রাম]

 

ল্যাম্পপোস্ট
সাজু কবীর

ল্যাম্পপোস্টটিতে অন্ধকার জ্বলে থাকে
ঘরে ফেরা পথিকেরা কপাল ফাটে, দিশেহারা
খাদের কিনারে পথটি শিকলে বাঁধা...
বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলেই হলো?
বাল্ব থাকা চাই।
এখানেও আছে—
শোনা যায় দিনের আলোতে ল্যাম্পপোস্টটি তা
নিজের পথ দেখতে ব্যবহার করে থাকে!
[রংপুর]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কবিতা

মঈন ও তার বাইসাইকেল 

‘তোমরা নতুন লেখক তৈরি করো না বাপু’

অন্যের সিলেবাসে চলার দাসত্ব ও আত্মহত্যার দর্শন 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ফাদার দ্যতিয়েন যেভাবে হয়ে ওঠেন বাঙালির আত্মজন 

জীবন কি ‘পোকা’ হয়ে ওঠারই নাম? 

কবিতা

অভিভূতকর অপেক্ষা