ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনের সড়কে উড়ছে ধুলোবালি। গাড়ি চলাচলের সঙ্গে সেই ধুলো ঢুকছে পথচারীদের নাকে মুখে। তারা নাক চেপে পার হচ্ছেন সড়ক। এটি উত্তর সিটির কামারপাড়া নতুন বাজার এলাকার একটি সড়কের চিত্র।
এই সড়কে বালু যেন না উড়ে কখনোই কাউকেই সে বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখেননি এলাকাবাসী। এই সড়কের চায়ের দোকানদার জানান, দৈনিক কয়েকবার ঝাড়ু দেওয়া লাগে দোকানে। গরমকালে আরও ধুলো বেশি থাকে। সিটি করপোরেশন থেকে কখনো পানি ছিটাতে দেখিনি।
এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ বলেন, নতুন ওয়ার্ড হওয়ায় এখানে সিটি করপোরেশন থেকে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নাই। তাই ধুলোবালি সড়কই ভরসা। অন্যান্য সুবিধাই পায়নি নতুন ওয়ার্ড।
এ সুবিধা তো অনেক বড় ব্যাপার। কামারপাড়া, রেশাদিয়া (আংশিক), কালিয়ার টেক, খায়ের টেক, নয়ানীচালা, রাজাবাড়ী, ধউর (আংশিক), আশুতিয়া এবং ভাটুলিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড। সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়ার পর এই ওয়ার্ডে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। নাগরিক সুবিধা নেই বললেই চলে। জনদুর্ভোগ সারাবছরের সঙ্গী তাদের। এখনো সিটি করপোরেশন থেকে পুরো এলাকায় হোল্ডিং নম্বরই বসেনি। জরিপের কাজ চলছে বলে জানান কাউন্সিলর।
ওয়ার্ডটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাটুলিয়া, তালতলা, মহিলা মাদরাসা, রাজাবাড়ি, গুলগুলা মোড়ের সড়কের অবস্থা বেহাল। পুরান বাজার, হানিফ আলীর মোড়ে সড়কে কোন রকম ইটের রাবিশ ফেলে রাখা হয়েছে। এখানে প্রায়ই ঘটে অটো উল্টে যাওয়ার ঘটনা। বৃষ্টির সময় জমে কাদা। এতে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এই এলাকার অটোচালক শাহীনুর জানান, এখানে অটো নিয়ে যাওয়াও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় অটো উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আর যাত্রীরাও গেলেও খুব অস্বস্তিতে থাকে। কোমর ব্যথা হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিউর বলেন, সিটি করপোরেশনে যুক্ত হলেও কোনো সড়কে নেই লাইট। সড়কে লাইট না থাকলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এতে ভাঙা সড়কে চলাও কঠিন হয়ে যায়। নিরাপত্তাও তো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লাইট জরুরি হয়ে পড়ছে।
ওয়ার্ডটির এখনো কোন এলাকায় এলএডি লাইট বসেনি। নেই কোন ড্রেনেজ সিস্টেম। অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে জমে যায় পানি। এই ওয়ার্ডে নেই কোন পার্ক ও খেলার মাঠ।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ বলেন, আমি নিজ উদ্যোগে প্রায় ১১ টি রাস্তা করেছি। সিটি করপোরেশন থেকে প্রায় ৪টি রাস্তা করা হয়েছে। তারপরেও এখনো এলাকায় অনেক সড়কই কাঁচা ও ভাঙাচোরা। সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। মেয়র নিজেও এই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এই ডিসেম্বরের মধ্যেই আরও একটি সড়কের কাজ শুরু হবে বলেও সিটি করপোরেশন থেকে জানানো হয়েছে। আমার ওয়ার্ডে এখনো কোন সড়কবাতি বসেনি। কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই।

রাজধানী জুড়ে ‘বাসাভাড়া’ সাইনবোর্ডের ছড়াছড়ি
‘ঢাকার প্রবেশপথে হবে ৪ টার্মিনাল, ঢুকতে পারবে না দূরপাল্লার বাস’