বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

মিতু হত্যা মামলা

তদন্তের দায়িত্বে সেই বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা!

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২১, ০১:০৩

চট্টগ্রামে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতদিন মামলাটির তদন্তে ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মহানগরের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। সম্প্রতি তিনি সিএমপিতে বদলি হয়েছেন। তার পরিবর্তে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পিবিআই মেট্রোর পরিদর্শক মহিউদ্দিন সেলিম।

সূত্র জানায়, মহিউদ্দিন সেলিম মিতু হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবুল আক্তারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে সিএমপিতে পরিচিত ছিলেন। ২০১৬ সালের ৫ জুন মিতু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি (মহিউদ্দিন সেলিম) মহানগর ডিবি পুলিশে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার ১৬ দিন পর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কতিপয় সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি মিতু হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসাকে নগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে মুসার স্ত্রী পান্না আক্তারের অভিযোগ। তিনি বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, ২০১৬ সালের ২১ জুন ডিবি পুলিশ নগরীর পতেঙ্গা কাঠগড় এলাকা থেকে তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। ঐ টিমে ডিবির অন্তত দু’জন পরিদর্শক ছিলেন। তাদের মধ্যে নেজামউদ্দিন নামে একজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। নেজামউদ্দিন নিজে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তার স্বামী মুসাকে পুলিশের পিকআপে তুলেছেন। এছাড়া মহিউদ্দিন সেলিম নামে আরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে পরে তিনি জানতে পেরেছেন।

মহিউদ্দিন সেলিম মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে পান্না আক্তার বলেন, যতদূর জানি তিনি (মহিউদ্দিন সেলিম) বাবুল আক্তার স্যারের খুবই প্রিয় ছিলেন। সেই বাবুল আক্তারই এখন এই মামলার প্রধান আসামি। তাহলে তদন্ত কতখানি সুষ্ঠু হবে, তা শুধু আল্লাহই জানেন।

মিতু হত্যায় দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলার বাদী ও মিতুর পিতা মোশাররফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, নানা কারণে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হতে পারে। এতে তদন্ত ব্যাহত হওয়ার কথা না। আশা করি আমি আমার মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার পাবো।

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, শুধু তদন্তকারী কর্মকর্তাই নয়, আমরা পিবিআইয়ের পরিবর্তে সিআইডি কিংবা র্যাবের মত অন্য যে কোনো সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছিলাম। পিবিআইয়ের তদন্তে ইতোমধ্যে এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা হয়েছে যাতে আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তারা (পিবিআই) তড়িঘড়ি করে এক আসামিকে দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি করিয়েছে। এখন সেই ব্যক্তি ওই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ১২ মে আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা। প্রতিবেদনে মিতু হত্যায় তার স্বামী বাবুল আক্তারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। একইদিন (১২ মে) মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে একই ঘটনায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামী করে পাঁচলাইশ থানায় নতুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ১১ নভেম্বর প্রথম মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালত নামঞ্জুর করে। একই সঙ্গে বিচারক চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন খারিজ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ প্রদান করেন। গত ১৫ নভেম্বর মিতু হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো সংস্থাকে দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদনও করেন। 

ইত্তেফাক/এসআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে ছয় মাসে সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত

মিতুর বাবার মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলো পিবিআই চট্টগ্রাম অফিস

মাসে ৪ লাখ টাকা মূল বেতন চান চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

করোনায় চট্টগ্রামে ৭০৪ জন আক্রান্ত

২০২৩ সালের জুনেই শেষ হবে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণকাজ 

চট্টগ্রামে ৭৫ ভাগ রোগীই ওমিক্রনে আক্রান্ত