বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

বিধি ভেঙে মাধ্যমিকের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের তালিকা!

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২১, ২১:৪২

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক পদোন্নতির লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত জ্যেষ্ঠতা তালিকা ২০১১ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে বিধি অনুসরণ করা হয়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ১ হাজার ৩৩৭ জন শিক্ষক। এমন অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে শিক্ষাসচিবসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ৭ কর্মকর্তার কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। এরপরও সমাধান না হলে উচ্চ আদালতে মামলা করবেন তারা।  

তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৩৭ জন প্রার্থীকে বিভাগীয় নির্বাচন কমিটি মনোনীত করেন। এরমধ্যে ১ হাজার ৩৭৭জন প্রার্থীকে ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগ প্রদানপূর্বক পদায়ন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভাগীয় নির্বাচন কমিটি কর্তৃক মনোনীত ৫৬০ জন প্রার্থীর পুলিশ প্রত্যয়ন বিবরণী ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই করতে ৩ মাস সময় লাগে। এই প্রার্থীদের ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি নিয়োগ প্রদানপূর্বক পদায়ন করা হয়। 

৩ মাস আগে যোগদান করেও জ্যেষ্ঠতার তালিকায় পিছিয়ে পড়া সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বলেছেন, ১৯৯১ সালের জ্যেষ্ঠতা বিধির আলোকে সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়। বিধি অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের তালিকা যোগদানের তারিখ থেকে ধরা হবে। কিন্তু ২০১১ সালে নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এটি লঙ্ঘন হয়েছে। 

প্রথমে বিধি মেনে ২০১১ সালে যোগদানের তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে খসড়া তালিকা তৈরি হয়। তবে এই তালিকা প্রকাশ করেনি শিক্ষা বিভাগ। এই খসড়া তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীরা। এ কারণে তারা আবেদন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। স্মারকলিপিও দেয় বিভিন্ন দফতরে। এই প্রার্থীদের দাবি, প্রশাসন সৃষ্ট সমস্যার কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা জুনিয়র হিসাবে গণ্য হচ্ছেন। 

তাদের এই আবেদনের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধার কোটায় নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালের বিধি অনুসরণ করার কথা বলা হয়। কিন্তু এ সিদ্ধান্তও পরে বাস্তবায়ন হয়নি। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের তালিকা হয় বয়সের ভিত্তিতে। ফলে ১ হাজার ৩৭৭ শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে। 

সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বলছেন, ফলে ৩-৪ মাস পরে যোগদানকারী শিক্ষকরা মাস আগে যোগদানকারী শিক্ষকদের পূর্বে জ্যেষ্ঠতা লাভ করেছে। অথচ তাদের যোগদান ও স্থায়ীকরণ হয়েছে ৩-৪ মাস পরে। 

তারা আরও জানান, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে নন ক্যাডার কর্মকর্তা কর্মচারি পদোন্নতি বিধি ২০১১ এর ৪.১ (খ) প্রয়োগ আদালত কর্তৃক বাতিল করার পরও এই বিধি প্রয়োগ করা হয়েছে।  

তারা বলেন, এই সমস্যার সমাধান চেয়ে একাধিক বার ও সচিব নিকট আবেদন, স্মারকলিপি ও উকিল নোটিশ করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। উপরন্তু চূড়ান্ত গ্রেডেসন তালিকা প্রকাশ না করেই সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের জুন মাসে। 

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন, জ্যেষ্ঠতা বিধিমালা ও আদালতের মামলার রায় পর্যালোচনা করেই এই তালিকা করা উচিত। তবে কোন কোন ব্যাচের ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটছে বলে আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টকরণের চিঠি পেয়ে আমরা সবাইকে একই দিনে যোগদান দেখিয়েছি। স্বাভাবিকভাবে তাদের জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে জন্মতারিখ বিবেচিত হবে।  

এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা বলেন, জনপ্রশাসনের সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপন্থী। কারণ জনপ্রশাসন ৪.১ (খ) এর আলোকে নিয়োগ দিতে বলেছেন। এই ধারায় বলা হয়েছে, একই সার্কুলারে অনেক লোক নিয়োগ হলে মেধা তালিকা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা হবে, নইলে বয়সের ভিত্তিতে হবে। উচ্চ আদালত বলেছে, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হবে না।  

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জাতিসংঘ মিশনে অংশগ্রহণে সুযোগ চান প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা

সংক্রমণের হার ২৫ শতাংশ ছাড়ালো

একদিনে করোনা শনাক্ত সাড়ে ৯ হাজার

সংক্রমণ বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ: শিক্ষামন্ত্রী

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে এবারের ডিসি সম্মেলনে

সংবিধান অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

ডিসি সম্মেলন কাল, করোনা পজিটিভ ৭ কমিশনার-ডিসি

ফের বাড়ছে করোনা, একদিনে শনাক্ত সাড়ে ৬ হাজারের বেশি