বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ ধর্ষণের আসামিকে জামিন দেন কামরুন্নাহার: আপিল বিভাগ

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১৩:০৮

স্থগিতাদেশ থাকার পরও ধর্ষণ মামলায় অসৎ উদ্দেশ্যে আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন বিচারক কামরুন্নাহার। বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া সংক্রান্ত আপিল বিভাগের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়। 

বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ দেওয়া ঢাকার আদালতের বিচারক মোসাম্মাৎ কামরুন্নাহার দেশের কোন ফৌজদারি আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না মর্মে রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকার পরেও ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের লিখিত রায়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

রায়ে বলা হয়েছে, জামিন সংক্রান্ত আপিল বিভাগের নির্দেশনা বিচারক কামরুন্নাহার জ্ঞাতসারেই অবজ্ঞা করেছেন। এজন্য তিনি ফৌজদারি মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নন। সেজন্য সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলো। তিনি দেশের কোন ফৌজদারি আদালতে কোন ধরনের ফৌজদারি মামলার বিচার কাজ পরিচালনা করতে পারবেন না। 

রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী। রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতিসহ অন্য তিন বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। 

সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

আপিল বিভাগের ছয় পৃষ্ঠার লিখিত রায়ে বলা হয়েছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর পূর্ববর্তী বিচারক ধর্ষণ মামলার আসামি আসলাম সিকদারের জামিন পাঁচবার নামঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারকের দায়িত্ব নিয়ে মোসাম্মাৎ কামরুন্নাহার অসৎ উদ্দেশ্যে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকার পরেও ওই আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। এটা সত্য যে কোন ফৌজদারি মামলায় আসামিকে জামিন দেওয়া না দেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে আসামির জামিন স্থগিতাদেশ থাকার পরও সেই আসামির জামিন মঞ্জুরের কোন সুযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের নাই। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আসামিকে জামিন দেওয়ার এখতিয়ার প্রয়োগের বিষয়টি সবসময় বিচারকসুলভ হতে হবে। এক্ষেত্রে মামলার অপরাধের মাত্রা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিচারককে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৭ এ বিচারাধীন আসামি আসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছিলো। মামলার এই পর্যায়ে এসে ওই আসামির জামিন মঞ্জুর যথাযথ হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আপিল বিভাগ। 

আপিল বিভাগ বলেছে, যখন মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে ছিলো এবং যেখানে আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আছে এবং পূর্ববর্তী বিচারক কর্তৃক পাঁচবার জামিন নাকচ হওয়ার পরেও বিচারক কামরুন্নাহার কর্তৃক ওই আসামিকে জামিন প্রদান আইন বহির্ভূত। জামিন বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়ের নির্দেশনা জ্ঞাতসারে লঙ্ঘন করে তিনি আসামি আসলামকে জামিন দিয়েছেন। 

মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসামি আসলামের জামিন মঞ্জুরের পর গত বছরের ১০ মার্চ সেই মামলার বিচার কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন কামরুন্নাহার। জামিন দেওয়ার পর তিনি কেন মামলার রায় দিতে বিব্রতবোধ করেছিলেন সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ আমরা (আপিল বিভাগ) খুঁজে পাইনি। 

প্রসঙ্গত, আসলাম সিকদার (৪২) প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে। সেই সুবাদে তার সঙ্গে এক নাট্যশিল্পীর পরিচয়। ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট আসলামের দিলু রোডের অফিসে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন। পরে বিয়ের কথা বলে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়েরকৃত মামলায় আসামি আসলামের জামিনের ওপর আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ দেয়। এই স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে তাকে জামিন দিয়ে দেন জজ কামরুন্নাহার। এ নিয়ে তলব আদেশে মঙ্গলবার আপিল বিভাগে বিভাগে হাজির হন তিনি। 

আপিল বিভাগের বিচারপতিদের জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এরপর তিনি ক্ষমাও চান। তার ক্ষমা গ্রহণ না করে তাকে ফৌজদারি মামলা পরিচালনার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি রেইনট্রি হোটেল ধর্ষণ মামলায় বিতর্কিত এক পর্যবেক্ষণ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ওই বিচারক। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। 

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

দেশের সেরা হাসপাতালে খালেদার চিকিৎসা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

‘নেপাল-ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করলে ঢাকা-দিল্লি উপকৃত হবে’

বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে: দীপু মনি

পরবর্তী কার্যনির্বাহীর সভায় ডা. মুরাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত: হানিফ 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মুরাদ হাসানের কুরুচিপূর্ণ অডিও-ভিডিও সরানোর নির্দেশ

ঢাকায় মৈত্রী দিবস উদযাপন

সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ‘জাওয়াদ’