মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

শীতকাল হলো মুমিনের বসন্তকাল

প্রকাশ : আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১৫:১৪

ঋতুচক্রে শীত সত্যিই মহান স্রষ্টার অপার মহিমা। শীত অধিকাংশ মানুষেরই প্রিয় ঋতু। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কাছে এ মৌসুম আরও প্রিয়। আর শীতকালকে রসুলুল্লাহ (স.) মুমিনের জন্য ঋতুরাজ বসন্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘শীতকাল হলো মুমিনের বসন্তকাল।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

খালিফাতুল মুসলিমিন হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, ‘শীতকাল হলো ইবাদতকারীদের জন্য গনিমতস্বরূপ।’ শীত এমন গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ), যা কোনো রক্তপাত কিংবা চেষ্টা ও কষ্ট ছাড়াই অর্জিত হয়। সবাই কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই এ গনিমত স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাভ করে এবং কোনো প্রচেষ্টা বা পরিশ্রম ব্যতিরেকে তা ভোগ করে। কাজেই শীতকালের এই মৌসুমকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য মুমিনের জন্য কিছু উত্তম ইবাদত নিম্নে তুলে ধরা হলো: ক. শীতকালের রোজা রাখা: ইমানদারের জন্য শীতকাল বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।

আমের ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘শীতল গনিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা রাখা।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৭৯৫) শীতকালে দিন থাকে খুবই ছোট। তাই শীতকালে রোজা রাখলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয় না। তাই কারো যদি কাজা রোজা বাকি থাকে, তাহলে শীতকালে সেগুলো আদায় করে নেওয়া উচিত। খ. শীতকালের শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো: রসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে মুমিন অন্য বিবস্ত্র মুমিনকে কাপড় পরিয়ে দিল, মহান আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরিয়ে দেবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৪৯) আমাদের নিকটস্থ অভাবী মানুষটিকে একটি শীতবস্ত্র কিনে দিয়ে আমরাও পেতে পারি জান্নাতের সেই সবুজ রেশমি পোশাক। গ. তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা :শীতকালে রাত অনেক লম্বা হয়। কেউ চাইলে পূর্ণরূপে ঘুমিয়ে আবার শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সালাত পড়তে সক্ষম হতে পারে। মহান আল্লাহ ইমানদারদের গুণাবলি সম্পর্কে বলেন, ‘তাদের পার্শ্বশয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের রবকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং 

আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা: সাজদাহ, আয়াত: ১৬) ঘ. শীতকালের অজু ও গোসলের ব্যাপারে সচেতন হওয়া :শীতকালে মানুষের শরীর শুষ্ক থাকে। তাই যথাযথভাবে ধৌত না করলে অজু-গোসল ঠিকমতো আদায় হয় না। আর অজু-গোসল ঠিকমতো আদায় না হলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। গ্রীষ্মকালে মানুষ ইবাদত-বন্দেগি স্বাভাবিকভাবে করলেও শীতকালে কিছুটা অলসতাবোধ করে। কেউ কেউ আবার শীতের তীব্রতার কারণে মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাজ কাজাও করে ফেলে। তাই এ বিষয়ে বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে; এমনকি শীতের মৌসুমে গরম পানি দিয়ে অজু করলেও সওয়াবে কমতি হবে না। তাছাড়া রসুল (স.) বলেছেন যে, আমাদের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেওয়ার অন্যতম উপায় হলো—কষ্টকর মুহূর্তে ভালোভাবে অজু করা।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫১) আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে শীতকালে ইবাদত বন্দিগি করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ রোগী কল্যাণ সোসাইটি

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চাঁদ দেখা গেছে, আজ থেকে জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু

পবিত্র কোরআনের ইংরেজি অনুবাদ করেন যিনি

ওমরাহ ছাড়াই কাবা শরীফ তাওয়াফ করার অনুমতি দিলেন বাদশাহ সালমান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ইসলামে কুসংস্কারের কুফল

চুনতির ৫১ তম ঐতিহাসিক সীরতুন্নবী (সঃ) মাহফিল সমাপ্ত

আজান ও কোরআন নিয়ে বিস্ময়কর তথ্য