সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

কবিতা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১৬:২৯

তাকায়নি ফিরে 
মাকিদ হায়দার 

কারো ঘৃণার উদ্রেক হোক
কখনো চাইনি আমি
অন্তত আমাকে দেখে। 

আমি যদি তাকে চোখের বাহিরে রেখে 
যদি তার নামে
আমার চোখের ভেতর পুকুর কেটে 
যদি কোনো ছলে বলি তাকে,
শেখাব সাঁতার আমার পুকুরে 
তাতে যদি অপরাধ হয়, হয় যদি 
ঘৃণার উদ্রেক। 
ফেরাব না গ্রীবা উত্তর দক্ষিণে। 

তিনি রেগে গিয়ে যেদিকে যেতেন—হয়তো যাবেন তিনি। 
আমি মিছেমিছি ভাবব না তার শাড়ির আঁচল নিয়ে। 

সেদিন দিনাজপুর যেতে 
হঠাত্ দেখা তার সাথে বগুড়া 
বাসস্ট্যান্ডে।

তখুনি বুঝলাম আমাকে দেখে 
তার যে ঘৃণার উদ্রেক হয়নি আজ 
ঠনঠনিয়ার বাসস্ট্যান্ডে। 

তিনি বসেছিলেন অদূরে 
ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক,

একবারো তাকায়নি ফিরে ছেঁড়াফাঁড়া কবির মুখের দিকে। 

 

সংসার সাজাই অন্ধকারে 
রুদ্র সাহাদাৎ

উঠোনে তারাদের সাথে কথা বলতে বলতে হেঁটে চলেছি
হাজার হাজার রাতের প্রহর
অন্ধকারে খুঁজি আরো অন্ধকার 

এসএমএস পড়ি না এখন, ফেইসবুকও 
টুইটারও হয় না পড়া, হাসি না কতোদিন হোয়াটস অ্যাপে 
হলুদ চিঠিগুলো পড়ে আছে ধুলোজমা ড্রয়ারে। 

কেন যে বারেবারে সংসার সাজাই অন্ধকারে 
সে কথা শুধুই মন জানে 
কেন যে বারেবারে পথ হারাই দিনদুপুরে 
সে কথা শুধুই ঈশ্বর জানে।
[মহেশখালী, চট্টগ্রাম]


ধানদেবী
জুবায়ের দুখু 

ধানগাছ, মুগ্ধ হওয়াও, বাঁচাও, মারও,
দখিনের প্রান্তর জুড়ে, বড়বিল, 
ক্যানাল পাড়ে তোমার জন্মস্থান। 
জন্মসূত্রেই তুমি হয়ে উঠেছ দেবী, 
ভাতদেবী, ক্ষুধা নিরসনের দেবী
দেবী দেবী দেবী
সমস্ত উঠোনজুড়ে তোমার 
আরাধনা করে আম্মা, 
ঢেঁকিঘরে ভাত প্রেয়সীরা, 
নাকফুল পরে নাকে 
ধান ভানে আমার প্রিয় দেবী 
তেপান্তরের ধানগাছ। 
[পাবনা]


রেলগাড়ির আশ্চর্য চোখ
সাইফুল ভূঁইয়া
 
শীত এসেছে আসেনি মশাল মিছিল
কীভাবে খুঁজি তাঁর মুখ
উঠানে এসেছে মাঝরাত
আসেনি ডলফিন

মনে রাখা জরুরি নয় তবুও
প্রতিটি ট্রেনের সাথে দেখা করি
অনিদ্রার চোখ তুলে
জিজ্ঞেস করি তাঁর কথা

আহা ফুলপুর! আহা মিলানো!
আহা রেলগাড়ির আশ্চর্য চোখ
তোমরাও মাঝে মাঝে রাত জেগো
তাঁর সাথে সারা রাত গল্প করো
[ঢাকা]

 

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কবিতা

রাজনীতির মহাকবির বয়ান

‘তুমি তো লয়ের পুতুল!’ 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অস্তাচলে বাংলা থ্রিলারের নবাবি সূর্য 

অভিনয় 

কবিতা

মঈন ও তার বাইসাইকেল