শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আড়াই লাখ টন লবণ মজুত তবু আমদানির পায়তারা

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২৬

দেশে উত্পাদিত লবণের পরিমাণ সম্পর্কে ভুল তথ্য উপস্থাপন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উত্পাদিত লবণ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলেও ঘাটতি দেখিয়ে আমদানির পাঁয়তারা চলছে। গত বছরের ২ লাখ ৫৪ হাজার টন লবণ এখনো চাষিদের কাছে অবিক্রীত অবস্থায় মজুত রয়েছে। তবুও কয়েক জন ব্যবসায়ী আপত্কালীন সংকট মোকাবিলার জন্য ৩ লাখ টন লবণ আমদানির জন্য তদবির করছেন।

আমদানির খবরে প্রান্তিক লবণচাষিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। আমদানির সুপারিশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পৃথকভাবে লবণ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। তবে আমদানি করা লবণের পরিমাণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। 

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ ছাড়া সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২ টন, সোডিয়াম সালফেট ১৭ হাজার ৬৮৩ টন। এছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে কস্টিক সোডা উত্পাদনকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবহারের জন্য ২ লাখ ২২ হাজার ১৫৪ টন লবণ আমদানি করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০২০-২১ অর্থবছরে বন্ডেড ও ননবন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। জানতে চাইলে বিসিকের ডিজিএম জাফর ইকবাল ভুঁইয়া বলেন, ‘সরকারি চারটি সংস্থা পৃথকভাবে লবণ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। এতে চাহিদা, উত্পাদন ও আমদানির সঠিক তথ্য সংরক্ষণ হচ্ছে না। আমরা শুধু শিল্প মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের মাধ্যমে আমদানির সিদ্ধান্তের জন্য বলেছি। গত বছরের ২ লাখ ৪৬ হাজার টন লবণ এখনো অবিক্রীত রয়েছে। শুনেছি  মিলমালিকরা লবণ আমদানির অনুমতির জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে বার্ষিক লবণ শিল্পের বাজার প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে শুধু বিসিকের মাধ্যমে লবণ শিল্পের মতো এত বড় শিল্পের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। বিসিক শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি সংস্থা। ভোজ্য লবণ ছাড়াও লবণ বিভিন্ন শিল্প কারখানায়, ওষুধ শিল্প ও কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজন হয়। ফলে বিক্ষিপ্তভাবে লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পৃথকভাবে লবণ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। ত্রিমুখী সিদ্ধান্তের কারণে দেদার লবণ আমদানি হচ্ছে। এতে প্রান্তিক চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।

লবণ উত্পাদন মনিটরিং করার জন্য কক্সবাজারে বিসিকের একটি কার্যালয় রয়েছে। সেখানে ডিজিএম পদমর্যাদার এক জন কর্মকর্তা রয়েছেন। লবণচাষি ও মিলমালিকদের দাবি—যদি লবণ উত্পাদনে ঘাটতি থাকে তাহলে কক্সবাজার জেলার স্থানীয় প্রশাসন, মিলমালিক ও চাষিদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এখন লবণ উত্পাদনের ভুল তথ্যের মাধ্যমে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজার ইসলামপুর লবণ মিলমালিক সমিতির সাবেক সভাপতি শামসুল আলম আজাদ বলেন, ‘বছরে প্রায় ২০ লাখ টন লবণ উত্পাদন হচ্ছে। এতে দেশে চাহিদার কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও মনিটরিং প্রক্রিয়ায় দুর্বলতায় বিক্ষিপ্তভাবে লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।’ প্রাপ্ত তথ্যমতে গত বছর লবণ উত্পাদন হয়েছে ১৬ লাখ ৫১ হাজার টন। তার আগের বছরের মজুত ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার টন। এসব লবণ দিয়ে দেশের বার্ষিক চাহিদা পূরণ হওয়ার কথা।

তবে বাংলাদেশ লবণ মিলমালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির দাবি করেন, সরকার প্রায় ৩ লাখ টন লবণ আমদানির পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমদানির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন। প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ লবণ উত্পাদন কম হচ্ছে। ফলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’ লবণচাষি কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারি কায়সার হামিদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘লবণ আমদানি হওয়ায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। উত্পাদন খরচ বেড়ে গেছে। তাই লবণ চাষে প্রান্তিক চাষিরা নিরুত্সাহিত হচ্ছে। দেশে যে পরিমাণ লবণ উত্পাদন হয় তাতে আমদানির প্রয়োজন হয় না। তারপরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নানা অজুহাতে লবণ আমদানির পাঁয়তারা করছেন। মৌসুমের সময় মণ (৪০ কেজি) ১৭০/১৮০ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারে না চাষিরা। অথচ বিভিন্ন কোম্পানি প্যাকেটজাত করে বাজারে কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি করছে। লবণ আমদানি বন্ধ না করলে দেশের লবণ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ 

ইত্তেফাক/ইউবি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আমদানি পণ্য পরিবহনেও কনটেইনার ট্রাকিং বাধ্যতামূলক

বিশেষ সংবাদ

আমদানি বন্ধ: প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বাড়লো ৫ থেকে ১০ টাকা

দ্বিগুণ হলো আমদানি-নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা 

বিশেষ সংবাদ

কনটেইনার ভাড়া বেড়েছে ছয় থেকে সাত গুণ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

৩১ বছর পর মার্কিন বন্দরে বাংলাদেশি জাহাজ

আসছে কম, বাড়ছে দাম

বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি, গতি ফিরছে রাজস্ব আদায়ে

জরুরি ভিত্তিতে আনা হচ্ছে ৮০ হাজার টন ফার্নেস ওয়েল